নাসিরউদ্দিন শাহ ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রয়াত অভিনেতা স্যার শন কনোরির প্রতি। শনের জীবনের শেষ ছবি ছিল দ্য লিগ অব এক্সট্রাঅর্ডিনারি জেন্টেলম্যান। ২০০৩ সালে স্টিফেন নরিংটনের পরিচালনায় ছবিটি মুক্তি পায়।

বলিউড হাঙ্গামাকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে নাসিরউদ্দিন শাহ বলেন, সুপারস্টার হওয়ার পরও স্যার শন কনোরির মধ্যে কোনো অহংকার ছিল না। শন কনোরিকে নিয়ে নাসিরউদ্দিন শাহ বলেন, ‘আমরা সব সহ-অভিনেতারাই শনকে নিয়ে একটু অস্বস্তিতে ছিলাম। কিন্তু তিনি কখনো তার আচরণে কোনো দাম্ভিকতা প্রকাশ করেননি। সে রকম কিছু করার প্রয়োজনও তার হয়নি। তিনি তার কস্টিউম আর উইগ পরে আমাদের সবার সঙ্গে বসে থেকেই খুশি ছিলেন।’

শন কনোরি ছিলেন পর্দার প্রথম জেমস বন্ড। এ চরিত্রে তিনি অনপনেয় ছাপ রেখে গেছেন। অনেকে তাকে এতদিন পর্দার সবচেয়ে সেরা বন্ড হিসেবে বিবেচনা করেন। পরবর্তী অনেক বন্ড অভিনেতাও তাদের ওপর স্যার শনের প্রভাবের কথা বলেছেন। প্রথম বন্ড ছবি ছিল ‘ড. নো’, ছবিটি ১৯৬২ সালে মুক্তি পেয়েছিল।

নাসিরউদ্দিন শাহ তার সাক্ষাত্কারে আরো বলেন, ‘তিনি আমাদের সম্পর্কে বিভিন্ন জিনিস জানতে চাইতেন, এটা ছিল দারুণ হূদয়গ্রাহী। কারণ সেলিব্রেটিরা কখনো অন্যদের নিয়ে আগ্রহ দেখান না। তারা সবসময় তাদের সম্পর্কে অন্যেরা প্রশ্ন করবে সে অপেক্ষায় থাকেন। এমনকি জিজ্ঞেস না করলেও নিজেদের সম্পর্কে বলতে পারলে খুশি হন! শন এসবের মধ্যে ব্যতিক্রম।

দ্য লিগ অব এক্সট্রাঅর্ডিনারি জেন্টেলম্যান ছবিতে নাসিরউদ্দিন শাহকে ক্যাপ্টেন নিমোর চরিত্রে দেখা গেছে আর স্যার শন কনোরি ছিলেন অ্যালান কোয়াটারমেইনের চরিত্রে। নাসিরউদ্দিন শাহ অবশ্য ছবিটা নিয়ে খুশি হতে পারেননি। ছয় মাসের শুটিং নিয়ে তিনি বলেছিলেন ছবিটা ‘একঘেয়ে’ ও ‘অসহ্য’। ২০১৯ সালে দ্য হিন্দুকে নিয়ে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে এটা আমার জীবনের সবচেয়ে একঘেয়ে কাজের অভিজ্ঞতার একটি। শুটিং টেনে এগিয়েছে ছয় মাস কিন্তু এজন্য যথেষ্ট অর্থ পেয়েছিলাম, তাই বেশি অভিযোগ করিনি। ছবিটা এক কথায় অসহ্য। এটা দেখা আমার জন্য অসম্ভব কাজ।’

 

সূত্র: ডিএনএ