নতুন সিনেমা ‘ঘামাসান’ ২০২৩ সালে নির্মাণ শেষ হয় এবং ২০২৪ সালে মুম্বাই ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে এর প্রিমিয়ার হয়। চরিত্রনির্ভর অ্যাকশন ড্রামাটি অবশেষে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জিফাইভ স্ট্রিমিং প্লাটফর্মে মুক্তি পাবে।
সম্প্রতি তিগমাংশু ধুলিয়া একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন স্ক্রলের নন্দিনী রামনাথকে। বণিক বার্তার পাঠকের জন্য সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ তুলে ধরেছেন মাহমুদুর রহমান।
ঘামাসান কীভাবে তৈরি হলো?
গল্পটা কভিডের ঠিক আগে প্রযোজক পীযূষ সিং নিয়ে আসেন। আমার ভালো লেগেছিল। বেশ কিছুদিন ডাকাতদের নিয়ে কোনো সিনেমা বানাইনি। আর বুন্দেলখণ্ডের ভূপ্রকৃতিটাও অন্বেষণ করতে চেয়েছিলাম।
ব্যান্ডিট কুইন কি পান সিং তোমর ও ঘামাসান—এ দুই সিনেমার জন্যই আপনাকে প্রস্তুত করেছিল?
হ্যাঁ। ব্যান্ডিট কুইন আমার জন্য একটা ক্লাসরুমের মতোই ছিল। চিত্রগ্রাহক অশোক মেহতার সঙ্গে কাজ করছিলাম। আমরা ঢোলপুরে শুটিং করছিলাম। সেখানে মাত্র একটি সিনেমা হল ছিল। সেটিও ছিল বাজে, প্রজেকশন ব্যবস্থাও খারাপ। সেখানেই আমরা ব্যান্ডিট কুইনের রাশ দেখতাম। শুট করা কোনো দৃশ্য কীভাবে বড় পর্দার জন্য একটি দৃশ্যে রূপান্তর হয়, সেটি দেখার সেটই ছিল আমার প্রথম অভিজ্ঞতা।
পান সিং তোমর বানানোর পর ঘামাসানে আপনি কী করতে চেয়েছিলেন?
ডাকাত ও পুলিশের গল্পের ধারণাটি আমাকে আগ্রহী করে তুলেছিল। আরো কিছু যোগ করতে চেয়েছিলাম। নিজেকেই প্রশ্ন করেছিলাম, আমি সিনেমাটি কেন বানাচ্ছি? এটাই ছিল বড় একটি দ্বন্দ্ব। সিনেমায় যে শিশুদের গল্পটি দেখতে পাবেন, সে অংশ যখন যুক্ত হলো, তখন সবকিছু জায়গামতো বসে গেল।
সিনেমাটি খুব সরল, সাদা-কালো এবং যা কিছু বক্তব্য তা সরাসরিই বলা হয়েছে।
আরশাদ ওয়ারসিকে এ চরিত্রে নেয়ার কারণ কী? আর প্রতীক গান্ধীকে পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে?
খলনায়কের কাস্টিং করতে অনেক সময় লেগেছে। আরশাদ কে আমি তার প্রথম সিনেমা ‘তেরে মেরে স্বপ্নে’ (১৯৯৬) থেকে চিনি। অভিনেতা হিসেবে তাকে সবসময়ই আমার ভালো লেগেছে।
প্রতীকের সঙ্গে এর আগে ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান মার্ডার’-এ কাজ করেছি। সে খুব নমনীয় অভিনেতা, যেকোনো চরিত্রে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে।
মজার ব্যাপার হলো, আরশাদ ও প্রতীক একদিনও একসঙ্গে শুটিং করেননি। এমনকি সিনেমায়ও তাদের চরিত্রের দেখা হয় না।
ঘামাসানে রাজপাল যাদব গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যা তার সাধারণ কমেডি চরিত্রগুলোর চেয়ে আলাদা।
এর আগেও টেলিভিশনে রাজপালের সঙ্গে কাজ করেছি। ‘হাসিল’-এও তার খুব ভালো একটি চরিত্র ছিল, যেখানে তার প্রচলিত ভাঁড়ামি ছিল না। আমি জানতাম, তিনি কত ভালো অভিনেতা। রাজপাল সবসময়ই ভিন্ন ধরনের চরিত্রের জন্য আগ্রহী।
অন্য প্রসঙ্গে আসি। তরুণ নির্মাতারা, এমনকি আপনার সমসাময়িকরাও কোন বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছেন না?
অনেক দিন ধরেই তারা শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত সিনেমা বানাচ্ছেন না। নান্দনিকতাও অনেকটা ধার করা। বিষয়টি চলচ্চিত্র নির্মাণে প্রশিক্ষিত হওয়ার নয়, দৃষ্টিভঙ্গির। বহু বছর ধরে আমরা কোনো ক্ল্যাসিক সিনেমা বানাইনি।
যেহেতু আপনি সিনেমা লেখেন এবং পরিচালনাও করেন, দীর্ঘ ফরম্যাটের সিরিজকে কীভাবে দেখেন?
সিনেমায় আপনাকে সবসময় গল্পকে সামনে এগিয়ে নিতে হয়। এমনকি চরিত্রনির্ভর সিনেমা হলেও শেষ পর্যন্ত আপনাকে একটি পরিণতির দিকে যেতে হবে। স্ট্রিমিংয়ে আপনি একটি মুহূর্তের পুরো রস বের করে নিতে পারেন। একটি মুহূর্তকে দীর্ঘায়িত করতে পারেন। সে সুযোগ রয়েছে, আমি এটি খুব উপভোগ করি।
আপনি দীর্ঘ ও আকর্ষণীয় কোনো ধাওয়া দেখাতে পারেন। তাৎক্ষণিকভাবে কিছু পরিবর্তন বা অভিনয়ে ইম্প্রোভাইজেশনেরও সুযোগ থাকে। স্ট্রিমিং সিরিজে কাজের অভিজ্ঞতা আমার ভালো লেগেছে। কিন্তু এখন স্ট্রিমিং নিয়ে আমি খুব হতাশ। সম্ভবত পুরো পরিস্থিতিটাই আমি ভুলভাবে বুঝেছিলাম।
এ মুহূর্তে নির্মাতা হিসেবে কোন ধরনের বিষয় আপনাকে আকর্ষণ করছে?
এমন সিনেমা, যেখানে শুধু গল্প নয়, তথ্যও থাকবে।
সম্প্রতি উদয় প্রকাশের একটি ছোটগল্প অবলম্বনে একটি ছোট সিনেমার কাজ শেষ করেছি। নাম ‘ওহ ফির কাভি দিখা নেহি’। দিল্লির একটি বস্তিকে কেন্দ্র করে নির্মিত মিউজিক্যাল থ্রিলার। নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী অভিনয় করেছেন।
আমার সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী স্বপ্ন, নির্মাতা কে আসিফের বায়োপিক নির্মাণ।









