অভিনেত্রী হিসেবে কঙ্কণা সেনশর্মা নিজের একটা জায়গা করে নিয়েছেন বহুদিন আগে। তবে দীর্ঘ সময় তিনি ছিলেন পাদপ্রদীপের আড়ালে। এখনো মূলধারায় তিনি অতটা নেই। কিন্তু দর্শক জানেন কঙ্কণা স্ক্রিনে এলে তার অভিনয়ের জন্য একটা কনটেন্ট দেখা যায়। অনেকেই বলে থাকেন- অপর্ণা সেনের এ কন্যা তার মায়ের বহু গুণই পেয়েছে। আসলেও অপর্ণা সেন গর্ব করতে পারেন কঙ্কণাকে নিয়ে। কেননা অভিনয়কে কঙ্কণা যথেষ্ট নিখুঁত করার চেষ্টা করেন। সেই সঙ্গে থাকে চরিত্রের সঙ্গে মিশে যাওয়ার চেষ্টা। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া সিরিজ কিলার সুপেও একই ঘটনা ঘটেছে। নেটফ্লিক্সের এ সিরিজ দর্শক খুব একটা পছন্দ করেনি কিন্তু স্বাতী শেঠি চরিত্রে অভিনয় করা কঙ্কণার প্রশংসা করছেন সবাই। এ সিরিজকে সামনে রেখে হিন্দুস্তান টাইমসকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন কঙ্কণা।
কঙ্কণাকে এ চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘স্বাতীর চরিত্রটা আমাকে রোমাঞ্চিত করেছিল। অভিষেক চৌবের নির্দেশনায় অভিনয় করার জন্য আমি মুখিয়ে ছিলাম। বিশেষত ইশকিয়ায় বিদ্যা বালানকে দেখে চরিত্রটাকে ভালোবেসে ফেলি। আমার মনে হয়েছিল এমন কোনো চরিত্রে কাজ করতে চাই। এরপর অভিষেক যখন কিলার সুপের জন্য আমাকে প্রস্তাব করেন, না বলার কোনো কারণ ছিল না। এছাড়া মনোজ বাজপেয়ির সঙ্গে অভিনয়ের সুযোগ কে হারাতে চায়!’
কিলার সুপ প্রায় ৮ ঘণ্টা দৈর্ঘ্যের সিরিজ এবং এতে আছে প্রচুর টুইস্ট। সাধারণত এ ধরনের সিরিজের শুটিং গল্পের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে হয় না। সেক্ষেত্রে চরিত্র ও গল্পের সঙ্গে তাল রাখা অভিনেতা-অভিনেত্রীর জন্য চ্যালেঞ্জ। কেমন করে সামলেছিলেন সে প্রশ্নের জবাবে কঙ্কণা বলেন, ‘একটু কষ্টই হয়েছিল। আমরা আসলে কখনই গল্পের ধারাবাহিকতা অনুসারে শুট করতে পারি না। ২ ঘণ্টার সিনেমায় তাও কোনোভাবে প্লট ধরা যায়। তবে সিরিজের বেলায় এটা আরো কঠিন। এমনও হয়েছে সকালে শুট করেছি প্রথম এপিসোডের অংশ আর রাতে শেষ এপিসোডের। এক্ষেত্রে প্লটটা মাথায় রাখতে হয়েছে।’
কিন্তু শুধু প্লট তো মাথায় রাখলে চলে না। এর সঙ্গে থাকে পারিপার্শ্বিকতা। মূলত কাজটা করা যায় সিনেমার নির্মাতাদের সহযোগিতায়। এ নিয়ে কঙ্কণা বলেন, ‘পুরো ক্রু এ চিত্রনাট্য নিয়ে অনেকটা কাজ করেছে। বলা যায় তারাই ছোট ছোট অংশে ভেঙে নিয়েছে পুরো চিত্রনাট্য। আমরা শুটের আগের দিন প্রস্তুতি নিতাম। সহকারী পরিচালকরা খুব সহযোগিতা করেছে। তার পরও মনে হতো একটা পপ-আপ কুইজ দিতে এসেছি।’
কেবল অভিনয় না, এ সিরিজে কঙ্কণাকে দেয়া হয়েছিল আলাদা লুক। তার লুক, চুল বাঁধার ধরনসহ অনেক কিছু্ই নজরে আসার মতো। কঙ্কণা জানান, লুক টেস্টের সময় থেকেই সিরিজের টিম এ নিয়ে কাজ করেছে। তিনি জানান, একটা টিপটাও যেন দেখতে ভালো লাগে তার জন্য অসংখ্য টিপ সংগ্রহ করা হয়েছিল।’
কিলার সুপ কেবল না, কঙ্কণার ঝুলিতে আছে বেশকিছু অসাধারণ কাজ। বলিউডে তিনি নজরে পড়েছিলেন লাইফ ইন আ মেট্রো, ওয়েক আপ সিডের মতো সিনেমায়। ওয়েক আপ সিডের থিম ধরে একটি বিজ্ঞাপন নির্মাণ হয়েছে। এ নিয়ে অভিনেত্রী বলেন, ‘আসলে পুরো কাস্ট অ্যান্ড ক্রু অসাধারণ। আর সহশিল্পীরা যেভাবে একসঙ্গে ছিলাম সেটা বড় বিষয়। রণবীর তো অসাধারণ। অ্যানিমেলের পর সে এখন অন্যতম বড় তারকা। কিন্তু মনে হলো সে পুরনো সিডই আছে। অনেক স্মৃতি মনে পড়ছিল। তবে সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয় দর্শক এখনো পুরনো চরিত্রগুলোকে ভালোবাসে।’
হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে আসরার আবেদিন










