উপন্যাস থেকে সিনেমা নির্মাণের চর্চা পুরনো। কিছু ক্ষেত্রে সিনেমা মূল বই ও তার গল্প থেকে বেশি সমাদৃত হয়েছে। তবে হলিউডের বর্তমান সময়ের অ্যাডাপটেশন নিয়ে নাখোশ জনপ্রিয় ফ্যান্টাসি লেখক জর্জ আর আর মার্টিন। সম্প্রতি তিনি অ্যাডাপটেশনের চলমান ধারার তীব্র সমালোচনা করেছেন নিজের ব্লগে। এর আগে ২০২২ সালেও তিনি আরেক জনপ্রিয় লেখক নেইল গেইম্যানের সঙ্গে আলোচনাকালে আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘হলিউডের অধিকাংশ লেখকই চিত্রনাট্য লেখার সময় মূল লেখার তোয়াক্কা করেন না’। 

মার্টিন তার ব্লগে লিখেছেন, ‘তার পর থেকে পরিস্থিতি খুব একটা বদলায়নি। যদি কিছু হয়ে থাকে, তা হলো অ্যাডাপটেশনের মান খারাপ হয়েছে। ক্রমবর্ধমান হারে চিত্রনাট্যকার ও প্রযোজকরা আগ্রহী হয়ে উঠছেন ভালো গল্পের দিকে, আর সেটাকে তৈরি করছেন নিজেদের মতো করে। সত্যিকার লেখক কী লিখেছিলেন, সেটার ধার তারা ধারেন না। সেটা স্ট্যান লির লেখাই হোক বা চার্লস ডিকেন্সের, ইয়ান ফ্লেমিংয়ের কিংবা রোয়াল্ড ঢালের, জে আর আর টোলকিনের হোক কিংবা মার্ক টোয়েনের। যে কারো ক্ষেত্রেই তারা এ রকমটা করেন।’

জে আর আর মার্টিন মনে করেন, মূল লেখা যত গুরুত্বপূর্ণ হোক কিংবা বইটা যত বিখ্যাত হোক, চিত্রনাট্যকাররা সবসময় ভাবেন, তারা আরো ভালো লিখতে পারবেন। গল্পটাকে নিয়ে নিজের মনের মাধুরী মিশিয়ে লিখতে চান। ব্লগে তিনি লিখেছেন, ‘তারা বলতে চান, বই বই-ই আর চলচ্চিত্র চলচ্চিত্র-ই। তারপর তারা নিজেদের মতো করে গল্প তৈরি করেন। অথচ গল্পটাকে ভালো বানান না। প্রতি হাজারের মধ্যে নয়শ নিরানব্বইবার তারা আরো খারাপ বানান।’ 

ভালো অ্যাডাপটেশনের প্রসঙ্গ আনতে গিয়ে মার্টিন ‘‌শোগুন’-এর উদাহরণ টানেন। তিনি বলেন, ‘যখন কোনো ভালো বইয়ের ভালো অ্যাডাপটেশন হয়, তখন তার প্রশংসা করা উচিত। এমন একটা উদাহরণ শোগুন। উপন্যাসের অ্যাডাপটেশন হবে শুনেই আমার সন্দেহ হয়েছিল। উপন্যাসটি আমি সত্তরের দশকে পড়েছিলাম। ১৯৮০ সালে মিনি সিরিজ বানানো হয়, যা দারুণ ছিল। আমার সন্দেহ ছিল, যদি সেটা এতই সুন্দর হয়, তাহলে আবার কেন? অথচ শোগুন সেদিক থেকে দুর্দান্ত হয়েছে। লেখক এটা দেখলে খুবই খুশি হতেন। পুরনো ও নতুন, উভয় চিত্রনাট্যই দারুণ হয়েছে। তারা মূল লেখার প্রতি সম্মান জানিয়েছেন।’

২০২২ সালে মার্টিন কথা বলেছিলেন উপন্যাস ও সিনেমা সম্পর্কে। তার অভিযোগ, কিছু মানুষ মনে করে সিনেমাকে উপন্যাসের অনুগামী হওয়ার দরকার নেই। তিনি বলেন, ‘আমি বিষয়টিকে ঘৃণা করি। সম্ভবত নেইলও ঘৃণা করেন।’ জবাবে সমর্থন জানান নেইল গেইম্যান। 

১৪৬৭-১৬১৫ সময় ‘সেনগোকু জিদাই’ বা ‘যুদ্ধকালীন সময়’ নামে পরিচিত। জাপান ওই সময় দীর্ঘ ও বিশৃঙ্খল অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। সে সময়কার এসব উত্তেজনাময় ঘটনাবহুল গল্পই চিত্রিত হয়েছে শোগুন মিনি সিরিজটিতে। ২০২৪ সালে র‌্যাচেল কন্ডো ও জাস্টিন মার্কস সিরিজটির জন্য ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটেই বেশি জোর দিতে চেয়েছিলেন। তুলে ধরতে চেয়েছিলেন সামন্ত জাপানের ভয়ংকর সব চিত্র। বর্তমানে দ্বিতীয় সিজন নিয়ে কাজ চলছে। 

সূত্র: ভ্যারাইটি