সোফিয়া লরেনের বয়স এখন ৮৬। টু উইমেন খ্যাত হলিউডের স্বর্ণযুগের এ জীবন্ত কিংবদন্তি অভিনেত্রী সম্প্রতি অভিনয় করেছেন নেটফ্লিক্সের ছবি দ্য লাইফ অ্যাহেডে। ছবিটি যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তি পেয়েছে ৬ নভেম্বর। ছবিতে তাকে দেখা গেছে মাদাম রোজার চরিত্রে। ছবির পরিচালক তারই ছেলে এদোয়ার্দো পন্টি।
ছবিটির প্রিমিয়ার হওয়ার কথা ছিল রোমে। কিন্তু যথারীতি বাদ সেধেছে মহামারী। তাই জেনেভাতে সোফিয়া লরেনের বাসায় বসেই জুমে মা ও ছেলে ছবির লঞ্চে যোগ দেন। পন্টি ল্যাপটপের সামনে বসে বেশ হাস্যোজ্বল থাকলেও সোফিয়া লরেন সম্ভবত প্রিমিয়ারের আয়োজন মিস করছিলেন।
দ্য লাইফ অ্যাহেড ছবির গল্প কিছুটা সোফিয়া লরেনের জীবনেরও। রোমে গ্যারির উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে এ ছবি। উপন্যাসের ঘটনাস্থল ছিল প্যারিস। পরিচালক পন্টি কাহিনীকে পুনঃস্থাপিত করেছেন আড্রিয়াটিক বন্দর নগরী বারিতে। কাহিনীর কেন্দ্রে ইহুদী নারী মাদাম রোজা আর মুসলিম বালক মোমো। এতিম মোমো আশ্রয় পায় মাদাম রোজার কাছে।
সোফিয়া লরেনের বাবা তার মাকে বিয়ে করেননি। বৈধ সন্তানের স্বীকৃতিহীন লরেনের শুরুর জীবন কেটেছে যুদ্ধবিধ্বস্ত ক্যাথলিক ইতালিতে। এ জীবন তার খ্যাতি ও কিংবদন্তির অংশ হিসেবে যুক্ত থেকেছে। অনেক সময় তার ছবির গল্প আর তার জীবনকে আলাদা করা কঠিন হয়ে উঠেছে। ধারণা করা হয় ১৯৬০-এর দশকে পিটার সার্সটেডে হয়্যার ডু ইউ গো টু (মাই লাভলি)? ছবিটি
সোফিয়া লরেনের জীবন নিয়ে। তবে পিটার অবশ্য শপথ করে বলেছেন যে ছবিটা লরেনকে নিয়ে নয়।
লরেনের মা রোমিলডা ভিলানি ছিলেন একজন তরুণ অভিনেত্রী। তিনি গ্রেটা গর্বো লুকআলাইক প্রতিযোগিতায় জিতেছিলেন। গ্রেটা গর্বোর ডাবল হিসেবে কাজ করার জন্য তিনি হয়তো যুক্তরাষ্ট্রে যেতেন, কিন্তু দুই সন্তান এবং কপর্দকশূন্য অবস্থা তা হতে দেয়নি। রোমিলডাকে তাই নেপলসেই থেকে যেতে হয়।
দ্য লাইফ অ্যাহেড ছবিতে মাদাম রোজা বেঁচে যাওয়া বিধ্বস্ত মানুষ। ছবির শুটিংয়ের সময় লরেনের মনে হয়েছে চরিত্রটার সঙ্গে তার মায়ের জীবনের মিল আছে। তিনি বলেন, ‘মা সবকিছু তার মধ্যে চেপে রাখতেন।’
এবার কথা বলে ওঠেন লরেনের ছেলে পন্টি। কথা যেহেতু হচ্ছিল তার নানিকে নিয়ে তাই এ বিষয়ে তারও কিছু বলার ছিল। পন্টি তার নানির যে বৈশিষ্ট্যের কথা স্মরণ করত পারেন তা হলো তার সহনশীলতা। তিনি একই সঙ্গে ভঙ্গুর আবার দৃঢ়। মায়ের এসব বৈশিষ্ট্য পেয়েছেন সোফিয়া লরেনও।
মনস্তত্ত্ববিদদের মনে হতে পারে নিজের মায়ের অধরা স্বপ্নগুলোই পূরণ করেছেন সোফিয়া লরেন। কিন্তু ব্যাপারটি সে রকম নয়। লরেনের কথায়, ‘সত্যিই সে রকম কোনো প্রেরণা কাজ করে থাকলে সেটা আমার মা নন বরং বাবা। মা নিরাপদ ও স্বচ্ছল জীবন চেয়েছিলেন। আমি আমার বাবার অবস্থানে যেতে চেয়েছিলাম। আমি বুঝতে চেয়েছিলাম তার জীবনটা আসলে কেমন। আমি কারণ খুঁজেছিলাম। সঙ্গে উত্তরও।’
কিছুটা রাগান্বিত ভঙ্গিতে শ্রাগ করে বললেন, ‘কিন্তু কোথাও কোনো উত্তর পাইনি।’
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান










