নতুন আরেকটি চমক নিয়ে ঈদে হাজির হচ্ছেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। চাঁদরাতে মুক্তি পাচ্ছে তার নতুন ওয়েবফিল্ম। নাম ‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’ বা এক শব্দে ‘মনোগামী’। সিনেমাটিতে মুখ্য দুই চরিত্রে অভিনয় করছেন চঞ্চল চৌধুরী ও জেফার রহমান। ওয়েব ফিল্মটি মুক্তি পাবে চরকিতে।
সিনেমাটি মূলত চরকির ‘মিনিস্ট্রি অব লাভ’ প্রজেক্টের অংশ। এতে ১২ জন জনপ্রিয় নির্মাতার ১২টি ভালোবাসার গল্প নিয়ে ১২টি চরকি অরিজিনাল ফিল্ম মুক্তি দেয়া হবে। এরই মধ্যে এ প্রজেক্টের দুটি সিনেমা, ‘সামথিং লাইক অ্যান অটোবায়োগ্রাফি’ ও ‘কাছের মানুষ দূরে থুইয়া’ মুক্তি পেয়েছে। সিনেমা দুটিই হয়েছে দর্শকনন্দিত ও প্রশংসিত।
মনোগামীর ফার্স্ট লুক এরই মধ্যে প্রকাশ হয়েছে। কাঁচাপাকা চুলে দেখা গেছে চঞ্চলকে। এর সঙ্গে বেশ আগেই প্রকাশ হয়েছিল জেফার রহমানের লুক। তাকে নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সিনেমা-নাটকপ্রেমীদের মধ্যে আগ্রহ দেখা গেছে। এর মধ্যে সম্প্রতি প্রকাশ হয়েছে সিনেমার একটি গান।
কোন ভাবনা থেকে সিনেমাটি নির্মাণ করছেন প্রশ্নে পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, ‘আমার প্রিয় একটা কাজ হচ্ছে মানুষের মনের ভেতর ছিপ ফেলে দেখা কী কী ধরা পড়ে সেখানে। ছোট-বড়, তুচ্ছ-গুরুত্বপূর্ণ সবই আমাকে নাড়া দেয়। মনোগামীতে অনেক দিন পরে মেল-ফিমেল রিলেশনশিপের কিছু দিক নিয়ে এ রকম ছিপ ফেলার সুযোগ পেয়েছি।’
পরিচালক আরো বলেন, ’ব্যাচেলর ছবিতে ব্যাচেলর জীবনের কিছু দিক কোনো রকম রাখঢাক ছাড়া দেখাতে পেরেছিলাম। এখানে বিবাহিত ও প্রবাহিত জীবনের কিছু দিক কোনো সুইট কোটিং ছাড়া দেখানোর সুযোগ পেয়েছি।’
সিনেমার প্রধান চরিত্রের অভিনেতাদের নিয়ে ফারুকী বলেন, ‘চঞ্চল চৌধুরীর সঙ্গে আমার কাজের অভিজ্ঞতা তো বহু পুরনো। এখানেও একই রকম অপ্রতিরোধ্য তিনি। এ ধরনের চরিত্র কম করার ফলে একটা দারুণ ফ্রেশনেস উনি নিয়ে এসেছেন তার অভিনয়ে। জেফারকে আমরা মিউজিশিয়ান হিসেবে চিনি। এখানে তাকে অচেনাই লাগবে। কিন্তু এ চরিত্রে তাকে পাওয়ার ফলে আমার গল্পটা প্রাণবন্ত হয়েছে।’
চরকিতে চঞ্চল চৌধুরীকে দর্শক নানা চরিত্রে নানা লুকে দেখেছে। তবে মনোগামীতে দেখা মিলবে অন্য এক চঞ্চল চৌধুরীর। নিজের চরিত্র ও কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে চঞ্চল চৌধুরী বলেন, ‘ফারুকী ভাইয়ের সঙ্গে আমার ২০০৫ থেকে কাজের শুরু, এখন ২০২৩। আমার ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট ছিল সে কাজটি। আর এবার মনোগামী সিনেমার গল্পটাই একদম আলাদা। সিনেমায় কিছু মনস্তাত্ত্বিক দিক আছে, যা দর্শককে ভাবাবে। আর এখানে আমার চরিত্রের লুক, গেটআপ একদম ভিন্ন থাকবে।’
কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে জেফার বলেন, ‘একজন সংগীতশিল্পী হিসেবে আগেও পর্দায় হাজির হয়েছি। কিন্তু মনোগামী সিনেমা কাজের অভিজ্ঞতা একদম ভিন্ন। বিষয়টি আমার জন্য অনেক আনন্দের, একই সঙ্গে চ্যালেঞ্জিং। মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সিনেমায় অভিনয় করতে পারা এবং সহ-অভিনেতা হিসেবে চঞ্চল চৌধুরীকে পাওয়া আমার জন্য কিছুটা চাপের ছিল। কিন্তু উনারা এত উদার ছিলেন ও সহযোগিতা করেছেন কাজটা আমার জন্য ব্যাপক রোমাঞ্চকর হয়েছে।’
চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেদওয়ান রনি বলেন, ‘দেখতে দেখতে মিনিস্ট্রি অব লাভের তৃতীয় সিনেমা রিলিজের পথে। প্রথম দুটি সিনেমা দর্শক বেশ পছন্দ করেছে। আশা করছি, দর্শক এবার মনোগামীর মধ্যে দিয়ে আগের ফারুকী ভাইয়ের নির্মাণ খুঁজে পাবে।’
সিনেমাটির আরো বেশকিছু বিষয় নিয়ে দর্শক আগ্রহী হতে পারেন। প্রথমত, এ সিনেমার অনেকটা অংশ শুট হয়েছে মেট্রোরেল ও মেট্রো স্টেশনে। এছাড়া মনোগামীতে অভিষেক হচ্ছে চঞ্চল চৌধুরীর ছেলে শুদ্ধর।
মিনিস্ট্রি অব লাভ মূলত সম্পর্কের গল্প। রোমান্টিক ধারার গল্প নিয়ে তৈরি হচ্ছে এর এক একটি সিনেমা। ওয়েব ফিল্ম বর্তমানে বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। নিজের ডিভাইসে ঘরে বসে বা চলতি পথে দেখে নেয়া যায় এক একটি সিনেমা। এছাড়া এরই মধ্যে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গল্প এনেছে মিনিস্ট্রি অব লাভ। সেখান থেকেই আশা করা হচ্ছে মনোগামীও দর্শকপ্রিয়তা পাবে।










