এটি বরাবরই তারকাদের উপস্থিতি, জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন এবং স্মরণীয় মুহূর্তের জন্য বিশেষভাবে আলোচিত। কিন্তু এবারের আসরে সেই পরিচিত ঝলক ছিল না। বিশাল মঞ্চ, সুপরিকল্পিত প্রযোজনা এবং বিশ্বজুড়ে দর্শক থাকা সত্ত্বেও বড় তারকাদের অনুপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটিকে ছোট ও সীমিত দেখা গেছে। এমন অনুষ্ঠান দর্শকের কাছে প্রত্যাশিত ছিল না।
অস্কারের ইতিহাসে এমন অনেক মুহূর্ত রয়েছে, যেখানে কিংবদন্তি তারকারা শুধু উপস্থিত থেকেও অনুষ্ঠানকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। অথচ এবার মেরিল স্ট্রিপ, টম ক্রুজ, ডেনজেল ওয়াশিংটন এবং টম হ্যাঙ্কসের মতো তারকাদের অনুপস্থিতি সে শূন্যতাকে আরো স্পষ্ট করেছে। বরাবরের মতো আলো ছড়ানো যে বাস্তবতা, তা ছিল না। উপস্থিত থেকেও অনেক পরিচিত মুখ ও তারকা মঞ্চে সক্রিয় ভূমিকা না নেয়ায় দর্শক হতাশ হয়েছেন।
যদিও কিছুটা সময়ের জন্য অনুষ্ঠানটি উজ্জ্বল মুহূর্ত উপহার দেয়। অনুষ্ঠানটি মোটামুটি সঠিকভাবে পরিচালিত হয়েছে। যদিও শন পেনের মতো তারকার অনুপস্থিতি দুঃখজনক ছিল। থমাস অ্যান্ডারসনের এবারের অস্কার জয়ী সিনেমা ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’-এ কর্নেল চরিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য ক্যারিয়ারের তৃতীয় অস্কার জিতেছেন শন পেন। পুরস্কার গ্রহণের চেয়ে তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাৎ করাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। অবশ্য অভিনয় বিভাগে বিজয়ী উপস্থিত তিনজন তারকা সুন্দর ও চিন্তাশীল বক্তৃতা দিয়েছেন। একইভাবে পল থমাস অ্যান্ডারসন ও রায়ান কুগলারের বক্তব্যও প্রশংসনীয় ছিল।
অন্যদিকে মঞ্চে নিকোল কিডম্যান ও ইওয়ান ম্যাকগ্রেগরের উপস্থিতি দর্শকের মধ্যে নস্টালজিয়া তৈরি করে। একইভাবে বারবারা স্ট্রাইস্যান্ড যখন রবার্ট রেডফোর্ডকে সম্মান জানান এবং গান পরিবেশন করেন, তখন কিছু সময়ের জন্য অনুষ্ঠান প্রাণ ফিরে পায়। কিন্তু এসব মুহূর্ত ছিল বিচ্ছিন্ন। পুরো আয়োজনে সেই তারকাসুলভ আবহ তৈরি হয়নি।
সঞ্চালক কোনান ও’ব্রায়েন তার স্বভাবসুলভ দক্ষতায় অনুষ্ঠান এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছেন। তবুও শক্তিশালী তারকা উপস্থিতির অভাবে তার প্রচেষ্টা বারবার সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছিল। কিছু বিনোদনমূলক অংশ ও উপস্থাপনা পুরনো ধাঁচের মনে হওয়ায় অনুষ্ঠানটি আধুনিক দর্শকের কাছে পুরোপুরি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠেনি।
এবারের অস্কারে বড় তারকাদের অনুপস্থিতির একটি কারণ হলো দীর্ঘ আলোচনার চাপ ও সমালোচনা। টিমোথি শালামের মতো তারকারাও বছরের দীর্ঘ পুরস্কার মৌসুমে অতিরিক্ত প্রচারণার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মিডিয়ার সমালোচনার মুখে পড়েছেন। তাই অনেকেই অপ্রয়োজনীয় প্রকাশ এড়িয়ে চলেন এবং বড় মঞ্চে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়া কমিয়ে দেন। এ বাস্তবতা সরাসরি প্রভাব ফেলেছে এবারের অস্কারের প্রাণবন্ত মুহূর্তগুলোয়।
সব মিলিয়ে, এবারের অস্কার এক গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা সামনে এনেছে, তারকারাই এ আয়োজনের প্রাণ। তাদের উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ ছাড়া মঞ্চ যত বড়ই হোক, সেই কাঙ্ক্ষিত জাদু তৈরি হয় না। দর্শক এখনো সেই ঝলমলে, তারকাখচিত মুহূর্তের অপেক্ষায় থাকেন, যা অস্কারকে সত্যিকারের বিশেষ করে তোলে। এবারের আয়োজনে সে প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ হয়নি। ফলে বিশ্বজুড়ে দর্শক হতাশ হয়েছে।
সূত্র: ভ্যারাইটি









