পুরাণে আছে যখন কেউ তার শত্রুর মাংস খায় তখন সে শত্রুর পুরো শক্তি পেয়ে যায়। কিন্তু এর ফলে সে এমন এক অতৃপ্ত ক্ষুধার দ্বারা অভিশপ্ত হয় যা শুধু বারবার মানুষের মাংস খাওয়ার মাধ্যমেই মেটানো সম্ভব। ঠিক এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয় ক্যাপ্টেন বয়েড এবং তার সাথীরা। দুর্গম এক অঞ্চলে এমন মানুষখেকোর খপ্পরে পড়ে তারা। এক অজানা ভাইরাসের কারণে তারা শুধু মানুষের মাংসের ক্ষুধা অনুভব করছে। একে দুর্গম এলাকা, তার ওপর লোকবল সংকট। বাঁচার আশা বড়ই ক্ষীণ।
এমন গল্পকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে ১৯৯৯ সালের চলচ্চিত্র ‘রাভেনোস’-এর কাহিনী। ছবিটি ওয়েস্টার্ন হরর জনরার বেশ জনপ্রিয় একটি চলচ্চিত্র। ক্যানিবালিজম বা একই প্রজাতির জীবের একে অন্যের মাংসকে খাদ্য হিসেবে খাওয়ার যে প্রচলন সেই বিষয়বস্তুর ওপর ভিত্তি করেই এ চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করা হয়েছে। ছবিতে মূল যে বার্তাটি দেয়া হয়েছে তা হলো, হয় শিকার করতে হবে নইলে শিকার হতে হবে।
ছবির গল্প শুরু হয় সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট জন বয়েডের কাহিনীর মাধ্যমে। আমেরিকা ও মেক্সিকোর মধ্যকার যুদ্ধের সময় আমেরিকার সেনাবাহিনীর হয়ে যুদ্ধ করা বয়েড বুঝতে পারে তার অতিসাহসিকতা তাকে মৃত্যুর মুখে ফেলে দিতে পারে। বাধ্য হয়ে সে মৃতের অভিনয় করলে মেক্সিকানরা অন্যসব মৃত সৈনিকদের সঙ্গে তাকেও ভাগাড়ে ফেলে দেয়। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে তার বেঁচে ফেরার পুরস্কার হিসেবে ক্যাপ্টেন উপাধি লাভ করে সে। কিন্তু যখন তার এ কাপুরুষত্ব প্রকাশ পায় তখন তাকে শাস্তি হিসেবে দুর্গম একটি এলাকার সেনা ক্যাম্পে পাঠানো হয়।
একদিন ক্যাম্পে সবাই মিলে আড্ডা দেয়ার সময় কলকোহন নামের এক ব্যক্তি উপস্থিত হয়ে এক নারকীয় গল্প বলে। সে জানায়, তার মালামাল পরিবহনকারী দল হঠাৎ পাহাড়ের মাঝে পথ হারিয়ে ফেলে। তিন মাস তুষারপাতের মাঝে আটকে থাকার কারণে ক্যানিবালিজমের শিকার হয়েছে। ক্যাম্পের প্রধান কর্নেল হার্ট এবং অন্যান্য কর্মকর্তা প্রাইভেট টোফলার, জর্জ, প্রাইভেট রেইচ এবং ক্যাপ্টেন বয়েড মিলে বিষয়টি তদন্ত করার জন্য যায়। কিন্তু পাহাড়ের সেই গুহায় উপস্থিত হয়ে তাজ্জব বনে যায় সবাই।
রেইচ ও রয়েড তদন্ত করে বুঝতে পারে কলকোহনই সেই ব্যক্তি যে তার অন্য সাথীদের খেয়েছে। এখন আরো মানুষের মাংস খাওয়ার জন্য সে ফাঁদ পেতেছে। ব্যাপারটা বুঝে অন্যদের সতর্ক করার আগেই কলকোহন কর্নেল হার্ট, জর্জ ও টোফলারকে হত্যা করে। একটু জোরাজুরি করে রেইচকেও হত্যা করে। কিন্তু বয়েড ভাগ্যক্রমে পালাতে সক্ষম হলেও এমন এক স্থানে এসে হাজির হয়, যেখানে সামনে কলকোহন আর পেছনে দুর্গম গিরিখাদ। বাধ্য হয়েই পাহাড়ের কোনা থেকে লাফ দেয় বয়েড।
১০০ মিনিট দৈর্ঘ্যের এ ছবিটি ১৯৯৯ সালের ১৯ মার্চ মুক্তি পায়। এন্টোনিয়া বার্ডের পরিচালনায় ছবিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন, গাই পিয়ার্স (জন বয়েড), রবার্ট
কারলাইল (কলকোহন), জেরেমি
ডেভিস (টোফলার), জেফরি
জোনস (কর্নেল হার্ট), নীল
ম্যাকডোনাফ (রেইচ) ও জোসেফ রানিংফক্স (জর্জ)। ছবিটি চলচ্চিত্র সমালোচকদের কাছে মোটামুটি সাড়া পেলেও প্রত্যেকেই এর আবহ সংগীতের ব্যাপক প্রশংসা করেছেন।










