বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম অধ্যায় মুক্তিযুদ্ধ। দেশকে স্বাধীন করতে মুক্তিসেনারা লড়াই করেছিলেন। তাদের ত্যাগের জন্যই আজ আমরা স্বাধীন। তাই তো আমাদের সংস্কৃতির বড় অংশজুড়ে আছে মুক্তিযুদ্ধ। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর ঘাতকের হাতে প্রাণ দেয়া জাতির সূর্য সন্তান শহীদ বুদ্ধিজীবীরা। তাদের স্মরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে শুরু হয়েছে ‘স্মৃতির বিজয়’ শীর্ষক অনুষ্ঠান। প্রতি বছরের মতো এ বছরও বিশ্ববিদ্যালয়টির চলচ্চিত্র সংসদ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে এ বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। ১৪ ডিসেম্বর শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী এ আয়োজন চলবে আগামীকালও।
গতকাল সূচনা পর্বে সন্ধ্যা ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি চিরন্তনে শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সদস্যদের স্মৃতিচারণ ও আলোক প্রজ্বালনের মাধ্যমে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করা হয়েছে। একাত্তরের শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতিচারণমূলক আলোচনায় অংশ নিয়েছেন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও ভাষাবিজ্ঞানী শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনীর চৌধুরীর পুত্র আসিফ মুনীর; প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক, ঔপন্যাসিক ও গল্পকার জহির রায়হানের পুত্র অনল রায়হান; শিক্ষাবিদ জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতার কন্যা মেঘনা গুহঠাকুরতা। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক ও ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক আশফাক হোসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদের মডারেটর টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি (টিএফপি) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাবিবা রহমান।
আয়োজনের দ্বিতীয় দিনে থাকছে নানা আয়োজন। ফানুস উড্ডয়ন, আলোক প্রজ্বালন, গ্রাফিতি, চলচ্চিত্র প্রদর্শনীসহ নানা আনন্দ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে চলবে বিজয় দিবসের আজকের বর্ণিল উদযাপন।
‘স্মৃতির বিজয়’ অনুষ্ঠানের শেষ হবে বিজয় দিবসে। আগামীকাল বিজয় দিবস উপলক্ষে সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উন্মুক্ত চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। এদিন প্রদর্শিত হবে জহির রায়হান নির্মিত তথ্যচিত্র ‘আ স্টেট ইজ বর্ন’ ও জাহিদুর রহিম অঞ্জন পরিচালিত ‘মেঘমল্লার’ সিনেমাটি।










