‘মুল্লুক’ শিরোনামের গানটি চা-শিল্পীদের মুখে মুখে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বেঁচে আছে। এটি নিছক গান নয় বরং শতবর্ষের ইতিহাস, নিজের মাটিতে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা, পরিচয় ও আপন ঘরের সন্ধান। লোকঐতিহ্যের গভীর শিকড়ের সঙ্গে সমকালীন সুর ও সংগীতের মেলবন্ধনে গানটি নতুন করে তুলে এনেছে হারিয়ে যেতে বসা এক সম্প্রদায়ের গল্প। চা বাগানের শিল্পীদের সঙ্গে এ গানে যুক্ত হয়েছে ‘মেঘদল’।
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলা বিকল্পধারার সংগীতে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছে ‘মেঘদল’। সাহিত্য ও লোকঐতিহ্যের সঙ্গে রকসংগীতের শক্তিকে মিলিয়ে ‘মুল্লুক’ গানেও তারা খুঁজে নিয়েছে পুরনো দিনের এক গল্পের নতুন আখ্যান। ‘পিঞ্জরাকে পুষল ময়না’র ঐতিহ্যবাহী পঙ্ক্তি ও সুরের ভেতরে থাকা ইতিহাস ও আবেগকে ভিত্তি করে গানটি তৈরি করা হয়েছে। শতবর্ষ আগে বাংলাদেশের চা-শিল্পীদের জীবন ও ‘মুল্লুক চলো আন্দোলন’-এর ইতিহাস থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছে মেঘদল। সেই সংগ্রামের পাশাপাশি গানটিতে উঠে এসেছে শিকড়ে ফেরার আকাঙ্ক্ষা এবং নিজের আপন ঠিকানা খুঁজে পাওয়ার স্বপ্ন।
শিবু কুমার শীলের কথা ও সুরে তৈরি গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন চা-শিল্পী রনজু তাঁতি ও রঞ্জিত তাঁতি। তাদের কণ্ঠের সঙ্গে মেঘদলের সমকালীন সংগীতধারা তৈরি করেছে এক অনন্য সংলাপ। শ্রীমঙ্গলের ঢোলের ছন্দ এবং শিল্পীদের আবেগঘন পরিবেশনা গানটিকে আরো গভীরতা দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বহন করে আসা একটি সম্প্রদায়ের স্মৃতি, সংগ্রাম ও স্বপ্ন পেয়েছে সংগীতের নতুন ভাষা।
গতকাল রাত ৮টায় কোক স্টুডিওর অফিশিয়াল চ্যানেল ‘মুল্লুক’ মুক্তি পেয়েছে। গানটির কথা ও সংগীতায়োজনের পাশাপাশি নজর কেড়েছে কোক স্টুডিওর এবারের সেটটি। খাঁচা ও পাখির উপস্থাপন গানের কথাকে যুক্ত করেছে পারিপার্শ্বের সঙ্গে। এছাড়া ব্যাকগ্রাউন্ড ও কিছু ইনস্টলমেন্ট দিয়ে চা বাগানকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টাও চোখে পড়ে।
গানের গল্প শুধু একটি সম্প্রদায়ের ইতিহাসে সীমাবদ্ধ নয়। আপন মাটি ও ঘরে ফেরার আকাঙ্ক্ষা মানুষের এক চিরন্তন অনুভূতি। সেই অনুভূতিকে সামনে রেখে গানটি তাদের জন্যও উৎসর্গ করা, যারা প্রতিদিন নিরলস পরিশ্রম করে একটি ভালো আগামী দিনের স্বপ্ন দেখেন; স্বপ্ন দেখেন নিজের একটি দেশ, একটি ঠিকানা বা ঘরের যেখানে সত্যিকার অর্থে ফিরে আসা যায়।









