বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত অনেক সিনেমা দুই বাংলায় সমাদৃত। এর মধ্যে অন্যতম বাসু চ্যাটার্জি পরিচালিত রোমান্টিক চলচ্চিত্র হঠাৎ বৃষ্টি। জনপ্রিয় এ সিনেমার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে শনিবার এর মূল চিত্রনাট্য বই আকারে প্রকাশ করা হয়। বইটির নাম ‘চিত্রনাট্য ও অন্যান্য প্রসঙ্গ’। এতে রয়েছে বাসু চ্যাটার্জির রচনায় সিনেমাটির মূল চিত্রনাট্য ও অনেক স্থিরচিত্র, শিল্পী-কলাকুশলীর অভিজ্ঞতার কথা। হঠাৎ বৃষ্টি সিনেমার প্রধান দুটি চরিত্রে অভিনয় করেন ফেরদৌস আহমেদ ও প্রিয়াংকা ত্রিবেদী। ১৯৯৮ সালে সিনেমাটি মুক্তির পর দুই বাংলায় দারুণ সাড়া ফেলেছিল। এ সিনেমার মধ্য দিয়ে ফেরদৌস আহমেদ দর্শকের মনে স্থান করে নেন। 

হঠাৎ বৃষ্টি সিনেমাটির মূল চিত্রনাট্য বই আকারে প্রকাশ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ফেরদৌস বলেন, ‘‌এ সিনেমার সঙ্গে আমাদের প্রত্যেকের অনেক স্মৃতি। আর নিজের কথা বলতে গেলে বলা যায়, আমার হাজার হাজার স্মৃতি জড়িত এ সিনেমা নিয়ে। হঠাৎ বৃষ্টি নিয়ে প্রকাশিত এ বইয়ে আমার কিছু স্মৃতি লিখেছি। এটা আমার জন্য অন্য রকম আনন্দের। এ বই প্রকাশের পেছনে সাগর ভাই ও হাবিব অ্যাংকেলের অবদান রয়েছে। তাদের চেষ্টাতেই বইটি প্রকাশ হলো। ২৫ বছর পূর্তিতে এ সিনেমার সঙ্গে যুক্ত সবাইকে খুব মনে পড়ছে। প্রিয়াংকা, নচিকেতাদা, শ্রীলেখা, জুন সবক’টি মুখ খুব মিস করছি।’ 

খ্যাতিমান নির্মাতা বাসু চ্যাটার্জির কথা স্মরণ করে ফেরদৌস বলেন, ‘হঠাৎ বৃষ্টির পর বাসুদার সঙ্গে আমার আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয়ে যায়। আমি তার সঙ্গে চারটি সিনেমায় কাজ করেছি। বাসুদা ৯৪ বছরে মারা যান। মারা যাওয়ার মাস খানেক আগেও আমার সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি আমাকে বলেছিলেন, তিনি আরো একটি সিনেমা নির্মাণ করতে চান; আমাকেও চিত্রনাট্য পাঠিয়েছিলেন। আমার কাছে চিত্রনাট্যটি এখনো আছে।’

প্রকাশিত বইটিতে হঠাৎ বৃষ্টির পূর্ণাঙ্গ চিত্রনাট্য ছাড়াও লিখেছেন বাসুদেব চ্যাটার্জি মেয়ে, জুন মালিয়া, প্রিয়াংকা, শ্রীলেখা মিত্র, নচিকেতাসহ অনেকে।

এ সিনেমায় ফেরদৌস ও প্রিয়াংকা ছাড়াও আরো ছিলেন শ্রীলেখা মিত্র, রাইসুল ইসলাম আসাদ, মনোজ মিত্র, জুন মালিয়াসহ আরো অনেকে। হঠাৎ বৃষ্টির গানের সংগীত পরিচালনা করেছেন নচিকেতা চক্রবর্তী। গানগুলো দর্শকমহলে সাড়া ফেলেছিল।