বহু বছরের নীরবতা ভেঙে আফগানিস্তানের চলচ্চিত্র জগৎ মুখর হয়ে ওঠে ২০০১ সালের পর থেকে। গত পরশু তালেবানরা আবারো আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর থেকে নারী ও সংস্কৃতিকর্মীদের উদ্বেগ বাড়ছে। আশঙ্কা আছে সিনেমা নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা আরোপের। কয়েক দিন আগে তালেবানরা হত্যা করেছে ফজল মোহাম্মদ নামের এক কমেডিয়ানকে। তাই উদ্বেগ নেহাত অতিকল্পনা নয়।

২০০১ সালের পর থেকে চলচ্চিত্র শিল্প বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে এক্ষেত্রে বাড়ে নারীদের অংশগ্রহণ। লীনা আলম, আমিনা জাফরি, সাবা সাহার ও মারিনা গুলবাহারি গত এক দশকে আফগান চলচ্চিত্র শিল্পের প্রতিষ্ঠিত নাম। এদের মধ্যে সাবা আফগানিস্তানের প্রথম নারী চলচ্চিত্র পরিচালক। আফগানিস্তানকেন্দ্রিক চলচ্চিত্র বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে ২০০১ সালে মহসেন মাখমলবাফের কান্দাহারের মাধ্যমে। কান উৎসবে গিয়েছিল এ ছবি। এছাড়া আফগানিস্তানে নির্মিত ওসামা ছবিটি ২০০৩ সালে গোল্ডেন গ্লোব জয় করে। ২০১২ সালে বুজাকাশি বয়েজ অস্কার আসরে মনোনীত হয়েছিল। আ লেটার টু দ্য প্রেসিডেন্ট ছবিটিও সমালোচকদের দৃষ্টি কেড়েছে।

তালেবানদের নিয়ন্ত্রণ আফগান চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের উদ্বেগে ফেলেছে। কয়েক দিন আগে আফগান নির্মাতা সাহরা কারিমি বিশ্ববাসীর উদ্দেশে এক খোলা চিঠি লিখে তালেবানদের কর্মকাণ্ডের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। সাহরা আফগান ফিল্ম অর্গানাইজেশনের প্রথম নারী চেয়ারম্যান। তিনি লিখেছেন, তালেবানদের নির্দেশমতো না চললে বিভিন্ন জায়গায় নারীদের ওপর নির্যাতন এমনকি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির সদ্য পতন হওয়া সরকারের মিডিয়া ও সংস্কৃতি বিভাগের কর্মকর্তাকে হত্যা করেছে।

সাহরা কারিমি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ক্ষমতা গ্রহণের পর তালেবানরা বিভিন্ন শিল্পকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করবে। তিনি ও অন্য নির্মাতারা তালেবানদের হাতে খুন হয়ে যেতে পারেন। তারা নারীদের অধিকার কেড়ে নেবে। আফগান নারীদের স্কুল-বিশ্ববিদ্যালয়-পাবলিক প্লেস থেকে ঘরের কোণে ফিরে যেতে হবে। এসব পরিস্থিতি বর্ণনা করে কারিমি বিশ্বের সব চলচ্চিত্র সংঘ ও সিনেমাপ্রেমীদের তালেবানদের হাত থেকে আফগান জনগণ, বিশেষত চলচ্চিত্র নির্মাতাদের রক্ষার আবেদন জানিয়েছেন।

ভারতের আলোচিত নির্মাতা অনুরাগ কাশ্যপ সাহরা কারিমির এ খোলা চিঠিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেছেন এবং সঙ্গে কারিমির বার্তা ছড়িয়ে দিতে আহ্বান জানিয়েছেন।

তালেবানদের ক্ষমতা দখলের পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থান থেকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বলিউডের আরো কয়েকজন নির্মাতা, শিল্পী। কাবুল এক্সপ্রেসের পরিচালক কবির খান আফগানিস্তানের সঙ্গে ভালোভাবেই পরিচিত। তিনি ভাঙা হূদয়ের ইমোজি দিয়ে আফগানিস্তানের কিছু ছবি শেয়ার করেছেন।

রিয়া চক্রবর্তী তার ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যখন নারীরা পুরুষের সঙ্গে পারিশ্রমিকের বৈষম্য দূর করতে আওয়াজ তুলছেন, তখন আফগানিস্তানে নারীদের বিক্রি করা হচ্ছে। আফগানিস্তানে নারী ও সংখ্যালঘুদের অবস্থা দেখে আমার হূদয় ভেঙে যাচ্ছে। বিশ্বনেতাদের আহ্বান জানাই এদের পাশে দাঁড়ানোর।’

 

সূত্র: ডিএনএ ও ইন্ডিয়া টুডে