বলিউডের আইকনিক ছবি শোলে পার করল ৪৬ বছর।
এত বছরেও কমেনি এ ছবির আবেদন।
বরং দিনে দিনে অমিতাভ বচ্চন, ধর্মেন্দ্র, হেমা মালিনী, জয়া বচ্চন, আমজাদ খান অভিনীত শোলে পেয়ে গেছে ‘আইকনিক’ ছবির তকমা।
অনেকের কাছে শোলে নিখুঁত বিনোদনমূলক ছবি।
চিত্রনাট্য, অভিনয় এবং গান—এ তিনের সমন্বয় দর্শককে পুরো সময়টা মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে।
শোলের সংলাপ লিখেছেন সালিম খান ও জাভেদ আখতার।
ছবির অনেক সংলাপ এখনো পপুলার কালচারের অংশ।
মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও ব্যবহূত হতে দেখা যায়, এমনকি তা হিন্দি ভাষী দুনিয়ার বাইরেও।
সঙ্গে ছিল আরডি বর্মণের সংগীত।
শোলে পর্দায় দেখতে যেমন রোমাঞ্চের, তেমনি এ ছবি নির্মাণের পেছনের গল্পগুলোও।
ধরা যাক কাস্টিংয়ের কথা।
ধর্মেন্দ্রই উদ্যোগী হয়েছিলেন জয়ের চরিত্রে যেন অমিতাভ বচ্চন অভিনয় করেন।
শুরুতে এ চরিত্রটি শত্রুঘ্ন সিনহার করার কথা ছিল।
আপ কি আদালতের একটি পর্বে ধর্মেন্দ্র বলেছিলেন, ‘আমি কখনো এ বিষয়ে কথা বলিনি।
কিন্তু যখন থেকে অমিতাভ নিজেই বলতে শুরু করেছে যে আমি তাকে জয়ের চরিত্রটি পেতে সাহায্য করেছি, তখন আমিও জানালাম যে হ্যাঁ, আমি তাকে চরিত্রটি পেতে সাহায্য করেছি।
সে মাঝে মাঝেই আমার কাছে আসত।
জয়ের চরিত্রটি শুরুতে শত্রুঘ্ন সিনহার করার কথা ছিল।’ পরবর্তী সময়ে শত্রুঘ্ন ধরেছিলেন ধর্মেন্দ্রকে যে কেন তিনি বিগ বিকে সাহায্য করেছিলেন।
শত্রুঘ্নের প্রশ্নের জবাবে সেদিন ধর্মেন্দ্র বলেছিলেন, ‘আমি খুব ভেবেচিন্তে কিছু করিনি।
সে আমার কাছে আগে এসেছিল।
তাই আমার মনে হয়েছিল এ বেচারাকেই চরিত্রটি দেয়া উচিত।’
আরেকটা মজার ঘটনা ছিল আমজাদ খানকে নিয়ে।
পরিচালক রমেশ সিপ্পি চাইছিলেন গব্বার সিংয়ের চরিত্রে আমজাদ খানকে নিতে।
সিপ্পি বলেন, আমজাদ খানের সঙ্গে প্রথম বৈঠকেই তার মনে হয়েছিল যে তিনি তার সেরা ভিলেন পেয়ে গেছেন।
তবে সিনেমার সঙ্গে যুক্ত সবাই আমজাদের এন্ট্রিতে খুশি হতে পারেননি।
বিশেষত আমজাদের কণ্ঠের জন্য।
কিন্তু এ কণ্ঠই ছবিতে গব্বারের চরিত্রে আমজাদ খানকে ইতিহাস করে দিয়েছে।
হেমা মালিনী ও ধর্মেন্দ্রর রোমান্সও শুরু হয়েছিল শোলের শুটিং থেকেই।
শোনা যায় ধর্মেন্দ্র ইচ্ছা করেই হেমা মালিনীর সঙ্গে রোমান্টিক দৃশ্যগুলো ঠিকঠাকমতো করছিলেন না যেন আরেকবার শুটিংয়ের সুযোগ পাওয়া যায়।
সমালোচক ও শোলে: দ্য মেকিং অব আ ক্ল্যাসিক গ্রন্থের লেখক অনুপমা চোপড়া এ বিষয়ে রমেশ সিপ্পিকে প্রশ্ন করেছিলেন।
সিপ্পি বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু টের পাননি, তবে ঘটনা সত্যি হয়ে থাকলে তিনি খুশি, কারণ তার ছবি বলিউডের একটি সত্যিকার প্রেমের গল্পের জন্ম দিয়েছে।
শোলেকে ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে একটি মাইলফলক ধরা হয়।
অবশ্য ছবিটি মুক্তির পর একে ফ্লপ বলে আখ্যা দেয়া হয়েছিল, কিন্তু কয়েক সপ্তাহ পর পরিস্থিতি বদলে যায়।
মুক্তির দুই মাস পর শোলেকে ব্লকবাস্টার হিট ঘোষণা করা হয়।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস










