‘চলো এবার ঘরে ফেরা যাক’, পরিযায়ী শ্রমিকদের উদ্দেশে লিখলেন উপমহাদেশের বিশিষ্ট কবি, নির্মাতা গুলজার। তাদের ঘরে ফেরার তাগিদ আর মহামারীতে মানবজীবনের বৈষম্য, দুর্দশার কথা তুলে ধরলেন তার কবিতায়। কবিতা লিখে এক ভিডিওতে নিজের কণ্ঠে পড়ে শুনিয়েছেন গুলজার। কবিতার শেষে গুলজার পরিযায়ী শ্রমিকদের সম্পর্কে বলেছেন, তারা সেখানে গিয়ে মরবে, যেখানে জীবন আছে।

কবিতার শুরুতে গুলজার লিখেছেন, মহামারীতে শহরের সব যন্ত্র থেমে গেছে, শুধু চলছে শ্রমিকদের হাত-পা। এই পা চালিয়ে তারা তাদের গ্রামে ফিরছে। জীবনের ঝুঁকি আছে জেনেও তাদের গ্রামে ফিরতে হবে, কারণ সেখানেই তার ঘর, তার জীবন, তার আত্মীয়।

মাইলের পর মাইল হেঁটে চলেছেন তারা। গন্তব্য বহুদূর। কয়েক শো কিলোমিটার হবে! ঘুমে চোখ জ্বলছে। কাঁধে-মাথায় ব্যাগ-বোচকা। খাবার নেই। ওরা ভারতের পরিযায়ী শ্রমিক। পেটের খাবার জোগাতে এক রাজ্য থেকে ভিন রাজ্যে এসেছিল রোজগারের আশায়। কিন্তু লকডাউনে কলকারখানা সব বন্ধ। বাড়ি ফেরা ছাড়া তো আর কোনো গতি নেই! হাজার হলেও ওখানে এক টুকরো জমি আছে। চাষ করে যেমন হোক দিন গুজরান হয়ে যাবে। পরিযায়ী শ্রমিকদের এমন দুর্দশার কথাই উঠে এলো গুলজারের কবিতায়।

এই শ্রমিকদের কথা মরব তো মরব, সেখানে গিয়েই মরব, যেখানে আমার শিকড়। যেখানে আমার গ্রাম, আমার জীবন। তাই এতটা পথ হেঁটে চলা। গুলজারের কবিতায় পরিযায়ী শ্রমিকদের এমন জীবন কথাই উঠে এসেছে।

কবি, লেখক তথা গীতিকার গুলজার বর্তমানের মহামারী পরিস্থিতির সংকটকে বারবার নিজের কাব্য প্রতিভা দিয়ে তুলে ধরেছেন। কখনো তার লেখার মধ্য দিয়ে জনগণকে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার বার্তা দিয়েছেন তো আবার কখনো বা লকডাউনে অভুক্ত থাকা মানুষের কথাই হয়ে উঠেছে লেখার বিষয়বস্তু। আবার কখনো বিভিন্ন জরুরি সেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের স্যালুট জানিয়ে কবিতা লিখেছেন। এবার লিখলেন পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্দশার কথা।

 

সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস