মুক্তির তিন দশক পূর্ণ হয়েছে ‘পাল্প ফিকশন’-এর। সে উপলক্ষে টিসিএম ক্ল্যাসিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের থিয়েটারে দেখানো হলো সিনেমাটি। দীর্ঘদিন পর একত্র হলেন জন ট্রাভোল্টা, স্যামুয়েল এল জ্যাকসন, উমা থারম্যান ও হার্ভে কেইটেলের মতো কলাকুশলীরা। যদিও পরিচালক কোয়ান্টিন টারান্টিনো সেখানে অনুপস্থিত ছিলেন। সিনেমাটি পর্দায় দেখানোর আগে স্মৃতিচারণ করেন সংশ্লিষ্ট তারকারা। জন ট্রাভোল্টা বলেন, ‘টারান্টিনো দুর্দান্ত। সিনেমার সঙ্গে সম্পর্কিত খেলাগুলো নিয়েও তিনি আগ্রহী ছিলেন।’

ট্রাভোল্টা জানান, তিনি কোয়ান্টিনোর সঙ্গে একবার মাঝরাতে বেরিয়ে পড়েছিলেন। সে সময় পরিচালক তাকে পাল্প ফিকশন ও হরর সিনেমা ‘ফ্রম ডাস্ক টিল ডন’ সম্পর্কে বলেন। ট্রাভোল্টা বলেন, ‘টারান্টিনো আমার কাছে ফ্রম ডাস্ক টিল ডন সম্পর্কে জানতে চাইলে আমি আপত্তি জানাই। বলি আমি মোটেই ভ্যাম্পায়ারের মানুষ নই। এটা আমার জন্য নয়। তাই আমি চলে গেলাম। কিন্তু এক সপ্তাহ পরেই দেখি তিনি আমাকে পাল্প ফিকশনের ভিনসেন্ট চরিত্র অফার করেছেন। আমি তাকে জিজ্ঞাসাও করেছিলাম, কেন আমাকে চরিত্রটি দিয়েছেন। তিনি সোজা বলেছিলেন, ‘‘তোমার একটা দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি আছে, যেটা আমার সিনেমার চরিত্রের জন্য দরকার।’’’

পাল্প ফিকশন সংশ্লিষ্ট অধিকাংশ তারকার জন্যই ছিল বাঁক পরিবর্তনকারী। তবে জ্যাকসনের জন্য মাত্রাটা ছিল সবচেয়ে বেশি। একজন সহ-অভিনেতা থেকে জ্যাকসন এর মধ্য দিয়েই আন্তর্জাতিক তারকায় পরিণত হন। স্ক্রিপ্ট যখন তার হাতে যায়, তখন তিনি ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায়। স্ক্রিপ্টের গায়ে লেখা ছিল, ‘যদি এ স্ক্রিপ্ট কাউকে দেখাও, তাহলে তৎক্ষণাৎ আমরা আসব ও তোমাকে খুন করব’। জ্যাকসন পাণ্ডুলিপিটা দুই দফা পড়ে অভিভূত হয়ে পড়েন। তবে জ্যাকসন ও ট্রাভোল্টার তুলনায় থারম্যানের দাবি ছিল আরো তীব্র। প্যানেলে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘চলচ্চিত্রের গুরুত্বপূর্ণ দিক এটা নয় যে এর মধ্য দিয়ে অভিনয়শিল্পীদের ক্যারিয়ার বদলে গেছে। বরং গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এটা হলিউডকেই বদলে দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সিনেমা বদলে গেছে। আমি যতজন পরিচালকের সঙ্গে কথা বলেছি, সবাইকে বদলে দিয়েছে পাল্প ফিকশন।’ 

সিনেমাটি প্রথম প্রদর্শিত হয় ১৯৯৪ সালের মে মাসে ফ্রান্সের কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে। উৎসবের সেরা পুরস্কার জেতার পর বছরজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। টারান্টিনোও ক্রমাগত মুভিটির প্রমোশন করতে থাকেন। বাণিজ্যিকভাবে বিশ্বব্যাপী ২১ কোটি ৩০ লাখ ডলার ঝুলিতে তোলার পাশাপাশি পাল্প ফিকশন পরিণত হয় কাল্ট মুভিতে। 

সূত্র: হলিউড রিপোর্টার