আঁলিয়স ফ্রঁসেজ দো ঢাকার লা গ্যালারিতে চলছে চিত্রশিল্পী রেজা আসাদ আল হুদা অনুপমের একক চিত্র প্রদর্শনী। কাব্যচিত্র নামের এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন হয় গত শুক্রবার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক শিল্পী হাশেম খান ও বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন চিত্রশিল্পী অধ্যাপক মোস্তাফিজুল হক।
অনুপম হুদা তার পেইন্টিংয়ে বাস্তবধর্মী অনুকরণের পথে যাননি। তিনি শিল্পের সন্ধান করেছেন। ছবিতে হুবহু বাস্তবের অনুকৃতি দেখে সৌন্দর্য ও আনন্দের অনুভব জাগতে পারে বটে, তবে অনুপম খুঁজেছেন তা থেকে বেশি কিছু, অন্য ধরনের কম্পোজিশন। অনুপম ছবি এঁকেছেন বিমূর্ত ফর্মে, যার ভেতর আছে রূপান্তর বা পরিবর্তন ও দূরত্ব। অনুপম হুদার আঁকা ছবি টোন, লাইন, কালার, টেক্সচার, কম্পোজিশন, ফর্ম সব মিলিয়ে ক্যানভাস তাই গভীর শিল্প হয়ে ওঠে।
অনুপম কবিতা লেখেন। কবিতায় তিনি তার ভাব প্রকাশ করেন। সেই ভাব পাঠকের কাছে পৌঁছায় রসের অভিজ্ঞতা নিয়ে। কিন্তু অনুপম তো কবি নন। তিনি ছবি আঁকেন। তখন কবিতাকে রূপান্তর করেন ছবিতে। অনুপমের আঁকা ছবি হয়ে যায় কাব্য। কাব্যরস জাগরিত হয় চিত্রশিল্পে। অন্যের মনে সঞ্চার হয় কাব্যরসের সঙ্গে মিশে যাওয়া নান্দনিক শিল্পরস। আর তাতেই তার এবারের প্রদর্শনীর নাম হয়েছে ‘কাব্যচিত্র’।
অনুপমের আঁকা ছবি তার লেখা কবিতার ভাষার মতো সরল। ভঙ্গি অতি নমনীয়। সেখানে প্রেম আছে, আছে দ্রোহ। তবে চিৎকার নেই, শান্ত ও নির্লিপ্ত। চেনা-জানা বিষয়বস্তু বলেই বিমূর্ত ছবির অনুভূতি অমনি চেনা বোধ হয়, অতি চেনা। মনে হয় এ যেন নিজের কথা, নিজের ভাবনা। বাস্তব আর কল্পনা মিশে যায় এক রেখায়। ছবিতে লেখা কথাগুলো হৃদয়ের নিশ্বাসের দূরত্বে দাঁড়িয়ে থাকে।
কাব্যচিত্র শিরোনামে অনুপম হুদার এবারের প্রদর্শনী তার দ্বিতীয় একক চিত্র প্রদর্শনী। এতে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ২৬টি চিত্রকর্ম আছে। সবগুলো ছবি ক্যানভাসের ওপর অ্যাক্রেলিক রঙে আঁকা। অনুপম ক্যানভাসে রঙের বিভিন্ন গঠন ও বুননের মাধ্যমে একটি আলাদা বিন্যাস তৈরি করে। সে বিন্যাসের ওপর থাকে রং আর ফর্মের এক অদ্ভুত কম্পোজিশন। অনুপমের আঁকা ছবি মূলত বিমূর্ত। এ বিমূর্ত ছবির ভেতরও কতক ক্যানভাসে সে খানিক মূর্ত অবয়ব নিয়ে এসেছে। এসব এসেছে প্রতীকী রূপে। নিসর্গের মাঝে নৌকা, কোনোটিতে এসেছে কবুতর, চড়ুই, শালিক। আবার সন্ধ্যার প্রেম, দুপুরের একাকিত্ব বোঝাতে রঙের নানা রূপ টেক্সচার, ফর্ম, লাইন। আবার দেখা যায় নারী অবয়ব। তবে অনুপম হুদার এ প্রদর্শনীর সবক’টি ছবিতেই মূর্ত ও বিমূর্তের এক অদ্ভুত সমন্বয় খুঁজে পাওয়া যায়। বলা যায়, যা একেবারে নতুন অনুপমের ছবি আঁকার নিজস্ব ভঙ্গি।
কাব্যচিত্র চলবে ২৮ নভেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত। সোমবার থেকে শনিবার বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত প্রদর্শনীটি খোলা থাকবে। রোববার সাপ্তাহিক বন্ধ। প্রদর্শনীটি সবার জন্য উন্মুক্ত।










