ধীরে হলেও নিজের অভিনয় দক্ষতার উপযুক্ত স্বীকৃতি পেয়েছেন মনোজ বাজপেয়ি। দর্শক থেকে সমালোচক—সব তরফেই মিলছে প্রশংসা। গ্ল্যামারসর্বস্ব বলে অভিযুক্ত বর্তমানকালের বলিউডে মনোজ এক উজ্জ্বল ব্যতিক্রম। তার ব্যতিক্রমী সব চরিত্র এবং মন জুড়ানো অভিনয় দর্শককে পর্দায় আটকে রাখে।
তবে বলিউডে একটু পা রাখার জায়গা পেতে বাইরে থেকে আসা শিল্পীদের বহু কাটখড় পোড়াতে হয়। মনোজের অভিজ্ঞতাটাও ছিল কঠিন। রীতিমতো সিনেম্যাটিক!
বলিউডে মনোজ বাজপেয়ির অভিষেক ১৯৯৪ সালে। সে হিসাবে প্রায় আড়াই যুগ কাটিয়ে দিয়েছেন। শুরুতে একবার এক সহকারী পরিচালক তার ছবি ছিঁড়ে ফেলেছিলেন। প্রথম শট দেয়ার পর তাকে ‘গেট আউট’ও বলা হয়েছিল। এখন তার ঝুলিতে আছে তিনটি জাতীয় পুরস্কার। নিজের এ বলিউড যাত্রা নিয়ে মনোজ হিন্দুস্তান টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন, ‘অবশ্যই যাত্রাটি গোলাপশয্যা ছিল না। কোনো একদিন আমি আত্মজীবনী লিখব। সেদিন সবাই পুরো গল্পটা জানতে পারবেন। ১৫ মিনিটের সাক্ষাত্কারে সবকিছু খুলে বলা যাবে না।’
তিনি যোগ করেন, ‘যা বলার আছে তা হলো, আমাকে বেশ চড়াই-উতরাই পার হয়ে আসতে হয়েছে। এটা ছিল একটা রোলার কোস্টার রাইড। আমি চাই আর কাউকে যেন আমার মতো কঠিন রাস্তা পার না হতে হয়। বহু বছর লেগেছে একটা ভালো ছবি ও চরিত্র পেতে।’
মনোজের ছবি সত্য হিট হয়েছিল। কিন্তু তাতে মনোজ রাতারাতি তারকা হয়ে ওঠেননি। বলিউডে কাজ করতে গিয়ে নানা রকম শত্রুতা, আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে তাকে, ‘তারা চান আপনি তাদের মনমতো কাজ করবেন। কিন্তু তাদের চোখে স্বপ্ন দেখতে আগ্রহী ছিলাম না। আমি বলিউডে এসেছিলাম নিজের স্বপ্ন সত্যি করতে। তাই ঝামেলা হয়েছেই। শেষমেশ এ ইন্ডাস্ট্রিতে ২৫ বছর ধরে টিকে আছি।’
নিজের অভিনয় নিয়ে সন্তুষ্টি জানিয়ে মনোজ বলেছেন, তিনি এখন তাই করছেন, যেমনটা সবসময় চেয়েছেন। ‘অভিনেতা এবং মানুষ হিসেবে আমি চেষ্টা করেছি নিজের বিবর্তন ঘটাতে। নতুন কৌশল আয়ত্ত করেছি। নতুন ধরনের গল্পে নিজেকে মানিয়ে নিতে চেয়েছি। আমি সবসময়ই এমনটা করেছি এবং এখনো তাই করছি। ঈশ্বরের কৃপায় আমি ভালো আছি। আমার যাত্রাপথটা ছিল রীতিমতো অবিশ্বাস্য। অনেক রাজনীতি, শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে মোকাবেলা করে আমি আজ এখানে।’
মনোজ বাজপেয়ির পরবর্তী ছবির নাম ডায়াল হান্ড্রেড। ছবিটি পরিচালনা করেছেন রেনসিল ডি’সিলভা। ছবিতে মনোজকে দেখা যাবে পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে। তার সঙ্গে আরো দেখা যাবে নীনা গুপ্ত ও সাক্ষ্মী তানওয়ারকে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস










