আজ ‘নায়করাজ’ রাজ্জাকের জন্মদিন। বেঁচে থাকলে তিনি ৮২ বছরে পা দিতেন। ক্যারিয়ারে হয়তো যুক্ত হতো আরো কিছু সিনেমা। কিন্তু ২০১৭ সালের ২১ আগস্ট নায়করাজ রাজ্জাক পৃথিবীর মায়া ছেড়ে যান।
নায়করাজের দুই ছেলে সিনেমায় এলেও এখন আর সেভাবে যুক্ত নেই। একই কারণে বিএফডিসিতে তার জন্মদিন নিয়ে কোনো আয়োজন হয় না। তবে গণমাধ্যমগুলো নায়করাজের এ জন্মদিনে বিশেষ শ্রদ্ধা জানানোর উদ্যোগ নিয়ে থাকে। বিশেষত বিভিন্ন টিভি চ্যানেল তার জন্মদিন উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করে থাকে।
রাজ্জাকের স্মরণে চ্যানেল আই দিনব্যাপী আয়োজন করেছে বিশেষ অনুষ্ঠানের। সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে স্টুডিও থেকে সরাসরি প্রচার হবে ‘গান দিয়ে শুরু’। এতে অংশ নেবেন মো. খুরশীদ আলম। চিত্রনায়িকা মৌসুমীর উপস্থাপনায় থাকবে বিশেষ অনুষ্ঠান ‘নায়করাজের চার যুগ’। প্রচার হবে বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে। বেলা ১টা ৩০ মিনিটে দেখানো হবে আবদুর রহমানের উপস্থাপনায় বিশেষ অনুষ্ঠান নায়ক থেকে নায়করাজ। বিকাল ৩টা ৫ মিনিটে প্রচার হবে রাজ্জাক পরিচালিত ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ‘আয়না কাহিনী’। রাজ্জাককে নিয়ে বিকাল ৫টা ২৫ মিনিটে প্রচার হবে শাইখ সিরাজ নির্মিত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রামাণ্যচিত্র ‘রাজাধিরাজ’।
নায়করাজের জীবন ও ক্যারিয়ারের নানা গল্প নিয়ে নির্মিত ৯০ মিনিট ব্যাপ্তির তথ্যচিত্র ‘রাজাধিরাজ রাজ্জাক’। রাজ্জাকের মৃত্যুর বছরখানেক আগে থেকেই শাইখ সিরাজ এ তথ্যচিত্র নির্মাণে হাত দেন। এ প্রামাণ্যচিত্রে রাজ্জাকের সাক্ষাৎকার রয়েছে। পাশাপাশি একসময় তার কলকাতায় বেড়ে ওঠা, সেখানকার নিকটাত্মীয় ও বন্ধুবান্ধবের স্মৃতিচারণা, সিনেমার অংশ ও রাজ্জাক অভিনীত সিনেমার গান এ তথ্যচিত্রে যুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া চ্যানেল আইয়ের প্রতিদিনের অনুষ্ঠান তারকাকথন ও সিনেমার গানের বিশেষ পর্ব প্রচার হবে। তারকাকথন পরিচালক সূত্রে জানা গেছে, ওইদিনের বিশেষ পর্বে অংশ নেবেন নায়করাজের পরিবারের সদস্যরা।
এদিকে বাবার জন্মদিন নিয়ে নায়করাজ রাজ্জাকের ছোট ছেলে সম্রাট বলেন, ‘সত্যি বলতে কী, দিন যত যাচ্ছে যে কারো জন্মদিন নিয়ে উচ্ছ্বাসটা কমে যাচ্ছে। একটা সময় আব্বুর জন্মদিনে বড় পার্টি হতো। সময়টা খুব উপভোগ করতাম। কিন্তু এখন তো আসলে বিশেষ দিন বলেই যে এমন নয়, আব্বুর জন্য সবসময়ই দোয়া করি। আব্বুর কবরের কাছে যাই, আজকেও যাব। আল্লাহর কাছে দোয়া করে শুধু এতটুকুই বলব—আল্লাহ যেন আমার আব্বুকে বেহেস্ত নসীব করেন। আব্বু কোনোদিন কাউকে কোনো কষ্ট দিয়ে থাকলে যেন ক্ষমা করে দেন। শুধু দোয়া চাই সবার কাছে। জন্মদিনে কেউ বিশেষ আয়োজন করলেন কী করলেন না, এসব নিয়ে আমাদের সত্যিই কোনো ভাবনা নেই।’
সবারই মোটামুটি জানা যে ১৯৬৬ সালে ‘১৩ নং ফেকু ওস্তাগার লেন’ সিনেমায় ছোট একটি চরিত্রে নায়করাজের অভিষেক হয়েছিল। তবে জহির রায়হানের ‘বেহুলা’ সিনেমায় অন্যতম প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে চলচ্চিত্রে নিজের অবস্থান গড়ে নেন। এরপর থেকে টানা কয়েক দশক প্রধান নায়ক হিসেবেই তিনি অভিনয় করে গেছেন। অভিনয় করেছেন তিন শতাধিক বেশি চলচ্চিত্রে। এছাড়া তিনি একাধারে প্রযোজনা ও পরিচালনাও করেছেন। কেবল বাংলাদেশ নয়, পশ্চিমবঙ্গেও একাধিক ব্যবসাসফল ও সমালোচক প্রশংসিত সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। জীবনের একসময় অভিনয় করেছিলেন উর্দু ভাষার সিনেমায়ও।
আশির দশকে তাকে ‘নায়করাজ’ উপাধি দিয়েছিলেন প্রয়াত সাংবাদিক-চিত্রনাট্যকার আহমদ জামান চৌধুরী। সিনেমার জগতে ‘খোকা ভাই’ নামে পরিচিত ছিলেন তিনি । এরপর ধীরে ধীরে ‘নায়করাজ’ উপাধিটি মুখে মুখে রটে যায়। অভিনয় দক্ষতা, প্রযোজনা ও পরিচালনায় বাংলাদেশের সিনেমায় সার্বিক অবদানের কারণে তিনি সত্যিই আমাদের নায়করাজ।










