বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের বোনরা তাকে ‘ভুয়া প্রেসক্রিপশন’ দিয়েছিলেন। আর এ কারণে সুশান্তর মৃত্যু হতে পারে বলে রাজপুতের দুই বোনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন রিয়া চক্রবর্তী। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির তথ্যমতে, অভিযোগটি দায়েরের দায়িত্ব পড়ে মুম্বাই পুলিশের ওপর। ২ নভেম্বর মুম্বাই পুলিশ বোম্বে হাইকোর্টকে এসব তথ্য জানিয়েছে। এদিকে রিয়া চক্রবর্তীর দায়ের করা এফআইআর বাতিলের জন্য আবেদন করেছেন সুশান্তর দুই বোন প্রিয়াংকা ও মিতু সিং।

রিয়ার দায়ের করা এফআইআরে মুম্বাই পুলিশ সুশান্ত ও তার বোনদের সুনাম ক্ষুণ্ন করার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। এমনকি মুম্বাই পুলিশ রাজপুতের বোনদের দায়ের করা আবেদনটি খারিজের চেষ্টাও করেছিল।

রিয়ার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, সুশান্তের বোনরা দিল্লির চিকিৎসক তরুণ কুমারের সহায়তায় সুশান্তকে ‘ভুয়া মেডিকেল প্রেসক্রিপশন’ পাঠিয়েছিলেন। ফলে দুশ্চিন্তার ওষুধ পেয়েছিলেন সুশান্ত। পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে এভাবে ওষুধ প্রদান সুশান্তের মৃত্যুর কারণ হতে পারে। এসব তথ্য খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলেই মুম্বাই পুলিশ এফআইআরটি নিতে দায়বদ্ধ ছিল। মুম্বাই পুলিশের দায়ের করা এফআইআরটি রিয়া চক্রবর্তীর। তিনি রাজপুতের দুই বোন ও চিকিৎসক তরুণ কুমারের বিরুদ্ধে জালিয়াতি প্রতারণা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের তদন্ত চেয়েছেন।

২৮ অক্টোবর সিবিআই হাইকোর্টকে বলেছিল যে রাজপুতের বোনদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআরটি বিকৃত ও আইনত গ্রহণযোগ্য নয়। সিবিআই প্রিয়াংকা ও মিতু সিংয়ের আবেদনকে সমর্থন জানিয়েছিলেন। তারা যুক্তি দিয়েছিলেন, মুম্বাই পুলিশ বা রিয়ার কাছে যদি রাজপুতের মৃত্যু সম্পর্কিত কোনো তথ্য ছিলই, তাহলে তাদের উচিত ছিল সরাসরি এজেন্সির সঙ্গে তা শেয়ার করা।

তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই আরো যোগ করেছে, এফআইআরটি দায়ের করার আগে পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত করা উচিত ছিল। রিয়া চক্রবর্তী রাজপুতের বোনদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছে, তা বেশির ভাগই অনুমানমূলক এবং কোনোভাবেই এটা অভিযোগের ভিত্তি হতে পারে না।

এদিকে মুম্বাই পুলিশ সিবিআইয়ের এ অবস্থানের বিরোধিতা করে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছে, সিবিআই এরই মধ্যে তদন্ত করেছে যে মামলা, সেই একই মামলায় তাদের অভিযোগ নথিভুক্ত করা উচিত হয়নি।

উল্লেখ্য, এফআইআরে রিয়া দাবি করেছিলেন, সুশান্তের সঙ্গে তার পরিবারের অশান্তিপূর্ণ সম্পর্ক ছিল এবং তিনি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাতেও ভুগছিলেন। যার জন্য সুশান্ত চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। চলতি বছর জানুয়ারিতে সুশান্ত চণ্ডীগড়ে তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। ফিরে এসে বলেছিলেন, তিনি (সুশান্ত) ওষুধ সেবন ও চিকিৎসা বন্ধ করে দিচ্ছেন। অভিযোগপত্রে এসব উল্লেখ করা হয়।

মার্চে কভিডের কারণে ভারতে লকডাউন চলছিল। তখন রাজপুতকে স্থিতিশীল মনে হলেও দিনে দিনে তার মানসিক স্বাস্থ্য খারাপ হতে শুরু করে। ১৪ জুন সুশান্তকে তার মুম্বাই অ্যাপার্টমেন্ট থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। তখন আত্মহত্যার ঘটনা বলে একটি প্রাথমিক কেস দায়ের করা হয়। সুশান্তের আত্মহত্যায় মাদক সংশ্লিষ্টতার এ ঘটনায় রিয়াকে গ্রেফতার করা হয় এবং ৭ অক্টোবর জামিন পান রিয়া চক্রবর্তী।

 

সূত্র: স্ক্রল ইন