পরে তিনি তার ১৪ বছর বয়সী মেয়ে সাইরাকে নিয়ে নিরাপদে মুম্বাই ফিরে এসেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন তিনি।

লারা জানান, উত্তেজনা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় দুবাইয়ে অবস্থান করা অনেক ভারতীয় নাগরিকের মতো তিনিও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যান। তখন তার স্বামী, সাবেক টেনিস খেলোয়াড় মহেশ ভূপতি কাজের কারণে লন্ডনে ছিলেন। ফলে মেয়েকে নিয়ে তিনি দুবাইয়ে একাই ছিলেন।

লারা বলেন, ‘প্রথমদিকে সবাই বুঝতে পারছিল পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে। আকাশের ওপরই যখন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের বিস্ফোরণ ঘটতে শুরু করল এবং তীব্র শব্দ শোনা গেল, তখন বাস্তবতার ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।’

একপর্যায়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। লারা জানান, সাধারণত তিনি এমন ভিডিও প্রকাশ করেন না, কারণ এতে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হতে পারে। কিন্তু তখন তিনি মেয়েকে নিয়ে যে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় বের হতে যাচ্ছিলেন, সেটি ভেবে মনে হয়েছিল—হতে পারে সেটিই তার শেষ বার্তা। এ কারণে ভিডিওটি প্রকাশ করেন।

পরিস্থিতি আরো উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠলে লারা ও তার মেয়ে দুবাই ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। তার গাড়িতে করে প্রায় ২ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে বিমানবন্দরে পৌঁছেন এবং সেখান থেকে একটি বেসরকারি বিমান সংস্থার উড়োজাহাজে মুম্বাইয়ের উদ্দেশে রওনা হন।

লারা বলেন, ‘আমরা জেবেল আলি বন্দরের মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে থাকতাম। যেখানে প্রায় প্রতিদিনই বোমাবর্ষণ হচ্ছিল। প্রতিবারই বিস্ফোরণ বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের ঘটনা ঘটলে তার কম্পন স্পষ্টভাবে অনুভব করা যেত। তাই শেষ পর্যন্ত আমরা ঝুঁকি নেয়ার সিদ্ধান্ত নিই।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা গাড়িতে উঠে প্রায় ২ ঘণ্টা সড়কপথে যাত্রা করে ফুজাইরাহে পৌঁছি। আগের দিনই সেখানে বোমাবর্ষণ হয়েছিল। বিমানবন্দরে অপেক্ষার সময়টাও ছিল সমান উত্তেজনাপূর্ণ, সেখানেও বিস্ফোরণের সেই তীব্র শব্দ শোনা যাচ্ছিল।’

দ্রুত যাত্রী সরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়ার জন্য বিমান সংস্থার কর্মীদের প্রশংসাও করেন লারা। তিনি বলেন, ‘স্পাইসজেটের কর্মীদের সত্যিই ধন্যবাদ দিতে হয়। উড়োজাহাজ নামার পর প্রায় ১৫ মিনিটের মধ্যেই যাত্রী উঠিয়ে আবার উড্ডয়ন করানো হচ্ছিল। এমনকি কর্মীদের কেউই উড়োজাহাজ থেকে নামেননি।’

উড়োজাহাজ আকাশে ওঠার সময় যে দৃশ্যটি লারা দেখেছিলেন, তা ছিল শিহরণ জাগানো। লারা বলেন, ‘উড্ডয়নের সময় দূরে বিশাল কমলা রঙের আগুনের গোলার মতো দৃশ্য দেখা যাচ্ছিল। সেটি ছিল বোমাবর্ষণের পর জ্বলতে থাকা আগুন।’

ভয়, অনিশ্চয়তা আর ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রার সেই মুহূর্তগুলো পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত নিরাপদে ভারতে ফিরতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন লারা দত্ত।