বার্বাডোজে জন্ম নেয়া গায়িকা রিয়ানা এখন বিলিয়নেয়ার। শুধু তা-ই নয়, তিনি পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী নারী সংগীতশিল্পী। জন্মের পর তার নাম ছিল রবিন ফেন্টি, সেই রিয়ানা এখন ১৭০ কোটি মার্কিন ডলারের মালিক। এর পেছনে বড় অবদান অবশ্য ফেন্টি বিউটি কসমেটিকস লাইনের। এতে ৫০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে রিয়ানার। ফোর্বস ম্যাগাজিন জানাচ্ছে, রিয়ানার ১৭০ কোটি ডলারের সম্পদের পেছনে বড় অবদান অবশ্য তার গানের নয়, বরং তার ব্যবসায়িক সাফল্য। ফেন্টি বিউটি কসমেটিকস লাইনের শেয়ার থেকে রিয়ানার উপার্জন ১৪০ কোটি ডলার। বাকি ৩০ কোটি ডলার আয় করেছেন আরো কিছু ব্যবসা ও সংগীত দিয়ে।
রিয়ানার কোম্পানি ফেন্টি বিউটি কসমেটিকস লাইন অশ্বেতাঙ্গ নারীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। কারণ এটি তাদের জন্য অনেক ডার্ক শেড রেখেছে, যা অন্য বড় কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে তেমন একটা নেই। বিনোদনজগতে সম্পদের দিক থেকে রিয়ানার সামনে নারী আছেন কেবল একজন—অপরাহ উইনফ্রে।
ফেন্টি বিউটি যাত্রা করে ২০১৭ সালে। শুরু থেকেই রিয়ানার লক্ষ্য ছিল বিভিন্ন রঙ ও জাতির নারীদের কাছে তার পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা গড়ে তোলা। আর এ উদ্যোগই তাকে দুনিয়ার নাগরিকদের এক বিশেষ শ্রেণী ‘বিলিয়নেয়ার’-এ জায়গা করে দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রিয়ানার রয়েছে শক্ত অবস্থান। ইনস্টাগ্রামে আছে ১০ কোটি ১০ লাখ ফলোয়ার। আর টুইটারে আছে ইনস্টাগ্রামের চেয়ে আরো ১৫ লাখ বেশি। নিজের এ জনপ্রিয়তাকে রিয়ানা তার বিউটি ব্র্যান্ডের প্রমোশনে ভালোই কাজেই লাগিয়েছেন। ফেন্টি বিউটির ৫০ শতাংশ শেয়ার রিয়ানার আর বাকিটা ফরাসি বিলাসী পণ্যের কনগ্লোমারেট এলভিএমএইচের।
শুরুতে অনলাইন ও এলভিএমএইচের স্টোরগুলোয় পাওয়া যেত ফেন্টি বিউটির প্রডাক্ট। চালুর পরই ব্র্যান্ডটি সাফল্য পায়। চালু হওয়ার পর প্রথম পূর্ণাঙ্গ বছর ২০১৮ সালে কোম্পানিটির আয় ছিল ৫৫ কোটি ডলারের বেশি। এর মাধ্যমে ফেন্টি বিউটি সেলিব্রেটিদের প্রতিষ্ঠা করা অন্য ব্যান্ডগুলোকে পেছনে ফেলে দেয়, যার মধ্যে আছে কাইলি জেনারের কাইলি কসমেটিকস, কিম কার্দাশিয়ানের কেকেডব্লিউ বিউটি এবং জেসিকা অ্যালবার অনেক কো.।
কনজিউমার প্রডাক্ট কনসালট্যান্ট কোয়েন শ্যানন বলেন, ‘অনেক নারী অনুভব করতেন তাদের গায়ের রঙের জন্য উপযুক্ত শেডের লাইন নেই। সবাই এটা জানতেন। আর এখানে তিনি (রিয়ানা) সবার জন্য পণ্য নিয়ে এলেন।’
নিজের এ আর্থিক সাফল্যের জন্য অবশ্য বেশ সময় দিতে হচ্ছে রিয়ানাকে। আগে তিনি প্রায় প্রতি বছরই নতুন অ্যালবাম প্রকাশ করতেন। কিন্তু ২০১৬ সালে অ্যান্টির পর তিনি আর কোনো নতুন অ্যালবাম বাজারে আনেননি।
সূত্র : ফোর্বস










