কানাডার ওন্টারিও রাজ্যের একটি ছোট্ট শহর পন্টিপুল। সেখানকার একটি রেডিও স্টেশনের ঘোষক হিসেবে কাজ করেন গ্রান্ট ম্যাজি। হঠাৎ একদিন তারা রেডিওতে একটি বার্তা পায়। একজন বিকারগ্রস্ত মহিলা বারবার ‘ব্লাড’ বলছে। এর পরই শোনা গেল আক্রমণের শব্দ। পুরো শহরে এক অজানা ভাইরাসের কারণে বিকারগ্রস্ত হয়ে গেছে মানুষ। ফলে তারা বিভিন্ন শব্দের উল্টো অর্থ করে আক্রমণ করছে একে অন্যকে।

এমনই গল্প আর টান টান উত্তেজনার রসদ নিয়ে তৈরি হয়েছে ‘পন্টিপুল’ চলচ্চিত্রটির কাহিনী। ২০০৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত হরর থ্রিলার জনরার কানাডিয়ান এ ছবিটি মূলত টনি বার্গেস রচিত ‘পন্টিপুল চেঞ্জেস এভরিথিং’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মাণ করা হয়েছে। ছবিটির গল্পে নতুনত্ব ও ভৌতিক ব্যাপার ছবিটিকে অন্যান্য জম্বি জনরার চলচ্চিত্র থেকে আলাদা করেছে।

রেডিওতে প্রথম বার্তাটি আসার পর একে একে অন্যান্য স্থান থেকেও একই রিপোর্ট আসতে থাকে। এরই মধ্যে এক রিপোর্টার কেন লোনি জানান, ড. জোয়ি মেন্ডেজের অফিসে একটি দাঙ্গা হয়ে গেছে। অনেক মানুষ মারা গেছে। কিন্তু সেই দাঙ্গার কারণ কী, তা এক রহস্য। সবাই একে অন্যকে শুধু আক্রমণ করছে। এক পর্যায়ে যখন কেন প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাত্কার নিতে যান, তখন তিনিও প্রায় আক্রমণের শিকার হতে বসেন। ফলে বাধাগ্রস্ত হয় রেডিও ট্রান্সমিশন।

রেডিও অফিসের টেকনিক্যাল কর্মকর্তা লরেল-অ্যান একটি ম্যাসেজ অনুবাদ করে বুঝতে পারেন, যারাই আক্রান্ত হচ্ছেন, তারা আক্রান্ত হওয়ার পর ইংরেজি ভাষার বিশেষ কিছু শব্দের প্রতি আক্রমণাত্মক আচরণ করছেন। ফলে পুরো শহরকে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে। এরই মধ্যে কেন আবারো ফোন করে ভাইরাস এবং আক্রান্তদের সম্পর্কে বেশকিছু তথ্য প্রদান করেন। কিন্তু অনেক দেরি হয়ে গেছে। জম্বিরা রেডিও স্টেশনেই আক্রমণ করে বসেছে। রেডিও স্টেশনটি ভেতর থেকে বন্ধ করে দিয়ে সবাই নিরাপদ অবস্থান নিতে থাকেন। ঠিক সেই সময়ই জানালার কাচ ভেঙে রেডিও স্টেশনে হাজির হন ড. মেন্ডেজ।

আশার আলো হয়ে দেখা দেয়, যখন রেডিও স্টেশনের ভেতরে থেকে অনেকেই বুঝতে পারেন জম্বিরা শব্দের ভিন্ন অর্থ তৈরি করছে। কিন্তু সেটা বেশিক্ষণ আর টিকে থাকে না। কারণ এরই মধ্যে জম্বিরা রেডিও স্টেশন ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়েছে। সাউন্ড বুথের ভেতরে আশ্রয় নিয়ে রয়েছেন যারা, তারা সাউন্ড প্রুফ স্থানে থাকার কারণে জম্বিদের আকর্ষণ করছে না। সবাই একদম আতঙ্কে চুপচাপ হয়ে গেছে। কারণ মৃত্যু একদম দোরগোড়ায়।

৯৫ মিনিট দৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্রটি ইংরেজি ও ফ্রেন্স দুটি ভাষায় মুক্তি দেয়া হয়। প্রথমে ২০০৮ সালে টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রিমিয়ার এবং পরে ২০০৯ সালের ৬ মার্চ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেয়া হয় ‘পন্টিপুল’ ছবিটি। ব্রুস ম্যাকডোনাল্ডের পরিচালনায় ছবিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন স্টিফেন ম্যাকহ্যাটি (গ্রান্ট ম্যাজি), লিসা হউলে (সিডনি ব্রিয়ার), জর্জিনা রেইলি (লরেল-অ্যান), র্যান্ট অ্যালিয়ানাক (ড. মেন্ডেজ), বয়ন্ড ব্যাংকস, টনি বারগ্রেস প্রমুখ। ছবিটি সমালোচকদের কাছ থেকে বেশ ভালো প্রশংসা পায়। এমনকি ‘কনসিকুয়েন্স অব সাউন্ড’-এর বিবেচনায় এখন পর্যন্ত বানানো সবচেয়ে ভয়ংকর ও ভৌতিক ছবির তালিকায় ৪২তম স্থানে রয়েছে ‘পন্টিপুল’ ছবিটি।