দক্ষিণ ফ্রান্সে সাগরপাড়ের শহর কানে চলছে পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন ও প্রভাবশালী চলচ্চিত্র উৎসবের ৭৭তম আসর। দীর্ঘ সময় অভিনয়ের ক্যারিয়ারে অনবদ্য সব চলচ্চিত্রে অভিনয় করলেও কানে এবারই প্রথমবার হাজির হয়েছেন ভারতীয় কিংবদন্তি অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। উৎসবে চতুর্থ দিনে তার অভিনীত ‘মন্থন’ সিনেমাটি প্রদর্শিত হয়েছে ‘কান ক্ল্যাসিকে’। তিনি চার যুগ আগে অভিনয় করেছিলেন মন্থন সিনেমায়। সেটি ছিল নাসিরুদ্দিন শাহ অভিনীত দ্বিতীয় চলচ্চিত্র। বর্ষীয়ান নির্মাতা শ্যাম বেনেগালের ধ্রুপদি এ সিনেমাকে সম্মান জানিয়ে এ বিভাগে ঠাঁই দিয়েছে উৎসব কর্তৃপক্ষ। 

সেখানে মন্থনের প্রদর্শনীতে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে উঠে আসে শ্যাম বেনেগাল নির্মিত সিনেমা ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’। সবারই জানা, এটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বায়োপিক। শ্যাম বেনেগাল ও তার নির্মাণ প্রসঙ্গে এ সিনেমার নাম এলে নাসিরুদ্দিন শাহ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর বায়োপিক ছবিটি আমি দেখেছি। খুবই ভালো সিনেমা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বলতে হয়, শ্যাম বেনেগালের ছবিটি ব্যাপকভাবে প্রদর্শিত হয়নি। কিন্তু আমি মনে করি, মূল চরিত্রে যিনি অভিনয় করেছেন তিনি দারুণ করেছেন। আমি ছবিটি উপভোগ করেছি। ছবিটি বেশ ইনফরমেটিভ, ইন্টারেস্টিং ও নাটকীয়।’

কেবল এখানেই শেষ নয়। এসব প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এসেছে রুনা লায়লার নামও। উপমহাদেশের কিংবদন্তি শিল্পী বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের গর্ব রুনা লায়লা। নাসিরুদ্দিন শাহ তাকে দারুণভাবে সম্মান দিয়েছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে নাসিরুদ্দিন শাহর যোগাযোগ আছে। এদেশে দুবার মঞ্চে পারফর্ম করতে এসেছিলেন নাসিরুদ্দিন শাহ। সেই স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি বলেন, ‘ঢাকার দর্শক চমৎকার। আমার সবচেয়ে আনন্দ লেগেছে রুনা লায়লাজির সঙ্গে দেখা করে।’ সবশেষে বাংলা ভাষা জানেন কিনা বলতেই নাসিরুদ্দিন শাহ বলেন, ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি।’ 

শ্যাম বেনেগাল পরিচালিত মন্থন (১৯৭৬) চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী হয় গত শুক্রবার পালে দে ফেস্টিভ্যাল ভবনের বুনুয়েল থিয়েটারে রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে। এর প্রদর্শনীতে নাসিরুদ্দিন শাহ ছাড়াও ছিলেন তার স্ত্রী বর্ষীয়ান অভিনেত্রী রত্না পাঠক শাহ, মন্থনের নায়িকা স্মিতা পাতিলের পরিবার, প্রযোজক ও ভারতের ফিল্ম হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের পরিচালক শিবেন্দ্র সিং দুঙ্গারপুর।