ইসরায়েল-হামাসের সংঘাত নিয়ে মন্তব্যের
জেরে ক্ষোভের মুখে পড়েছেন ফিলিস্তিনি-আমেরিকান সুপার মডেল জিজি হাদিদ। এক ইনস্টাগ্রাম
পোস্টে তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলই একমাত্র দেশ যারা শিশুদের যুদ্ধবন্দি করে রাখে। পরে
অবশ্য পোস্টটি মুছে দেন। খবর এনডিটিভি।
২৮ বছর বয়সী এ সুপার মডেল বরাবরই ইসরায়েল-ফিলিস্তিন
সংঘাতের বিষয়ে সোচ্চার। গত ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক আক্রমণের আগে তিনি ওই পোস্টে
বলেন, ফিলিস্তিনিদের হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ, অপহরণ ও নিপীড়ন করে আসছে ইসরায়েল।
তিনি লেখেন যে ইসরায়েল ‘বিশ্বের একমাত্র
দেশ’ যারা শিশুদের যুদ্ধবন্দি করে রাখে। সেখানে আহমেদ আলমানসরা নামের ১৩ বছরের ফিলিস্তিনি
সম্পর্কে বলা হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অনুসারে, আলমানসরা ও তার ভাই ২০ বছর বয়সী এক
নিরাপত্তারক্ষী ও ১৩ বছর বয়সী ছেলেকে ছুরিকাঘাত করার পর ইসরায়েলি পুলিশ গ্রেফতার
করে। তার ১২ কারাদণ্ড হয় এবং পরে তা কমিয়ে সাড়ে নয় বছর করা হয়েছিল।
তবে হাদিদের দাবি, গুরুতর স্বাস্থ্য
সমস্যার মাঝেও দখলদার ইসরায়েল আলমানাসরাকে অপহরণ করেছে ও নির্জন কারাবাসের রেখেছে।
এভাবে শতশত ফিলিস্তিনি শিশুবন্দি ইসরায়েলি কারাগারে ভুগছে।
এছাড়া জিজি হাদিদের রিপোস্ট করা হয়
এক ভিডিওতে দাবি করা হয়, স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ
সম্মতি ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে মৃত ফিলিস্তিনিদের অঙ্গ সংগ্রহ করছে।
হাদিদের অবস্থান সোশ্যাল মিডিয়ায়
ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। বেশ কয়েকজন ব্যবহারকারী মডেলিং এজেন্সি আইএমজি-কে এ সুপার মডেলের
সঙ্গে চুক্তি বাতিলের দাবি তোলেন।
গত অক্টোবরে ইনস্টাগ্রামে একটি গ্রাফিক
পোস্ট করেন হাদিদ। যেখানে লেখা ছিল, ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরায়েল সরকারের আচরণের মাঝে
ইহুদি কিছু নেই। ইসরায়েলি সরকারের নিন্দা করা ইহুদিবিরোধী নয় এবং ফিলিস্তিনিদের সমর্থন
মানে হামাসকে সমর্থন নয়। ওই পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল জানান, হামাসের ইসরায়েলিদের
গণহত্যার মধ্যে সাহসী কিছু নেই। হামাসকে নিন্দা করা (আইএসআইএস) ফিলিস্তিন বিরোধী নয়
এবং বর্বর সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলিদের অধিকারে সমর্থন করা হলো সঠিক।
জিজি হাদিদ সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভের
মুখে পড়লেও ইসরায়েলে যে অসংখ্য শিশু বন্দি হয়ে আছে তা স্পষ্ট। সাম্প্রতিক গাজায় চারদিনের
যুদ্ধবিরতিতে ইসরায়েলের জেল থেকে মুক্ত হওয়াদের বেশির ভাগই বন্দি শিশু-কিশোর। যেমন-
যুদ্ধ বিরতির চতুর্থ দিনে ৩৩ ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেয় ইসরায়েল। এদের মধ্যে তিনজন নারী,
বাকি সবাই শিশু-কিশোর।










