বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও সংগীতের অন্যতম পথিকৃৎ লালন সাঁইয়ের তিরোধন দিবসকে জাতীয় দিবস হিসেবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি দীর্ঘ একটি পোস্টে বিষয়টি জানান। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘একটা দেশকে শারীরিকভাবে কলোনি বানানোর আগে তাকে প্রথমে বুদ্ধিবৃত্তিক কলোনিতে রূপান্তরিত করতে হয়। তাকে বারবার বোঝানো হয়, তোমার কোনো সংস্কৃতি নেই। থাকলেও সেটা নিচুমানের সংস্কৃতি বা লো কালচার।’

ফারুকী আরও উল্লেখ করেছেন, লালনের গান, রক মিউজিকসহ বিভিন্ন উচ্চমানের শিল্পকর্মকে পূর্বের উপনিবেশিক ও আধিপত্যবাদী মানদণ্ডে ‘ফোক’ বা ‘অপসংস্কৃতি’ হিসেবে নামকরণ করা হয়েছিল। ফলে রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান বহু কালচারাল ঐশ্বর্যকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত রেখেছে।

আজকের (২৮ আগস্ট) ক্যাবিনেট মিটিংয়ে লালনের তিরোধন দিবসকে ‘ক’ শ্রেণির জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তিনি বলেন, ‘চব্বিশ পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো বাংলাদেশের জনগণের চর্চা ও অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক মানের সংস্কৃতিকে উদযাপন করা। এটি জাতিকে আত্মবিশ্বাসী ও মর্যাদাপূর্ণ করে, এবং বাইরের দুনিয়ায় আমাদের সাংস্কৃতিক পরিচয় প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে।’

ফারুকী আরও জানান, এস এম সুলতানের জন্মদিনকে ‘ক’ শ্রেণির জাতীয় দিবস হিসেবে উদযাপনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এছাড়া স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের বড় কালচারাল ফেনোমেনা যেমন হুমায়ূন আহমেদ, এবং দেশি রক আইকনদের উদযাপন নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে।

তিনি সমাপ্তিতে বলেন, ‘লালন উদযাপন করে আমরা রবীন্দ্র-নজরুলের বাইরে তাকানো শুরু করলাম। এটি কেবল শুরু। আমরা সমসাময়িক মাস্টার আর্টিস্টদেরও রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপন করব। ধরুন আইয়ুব বাচ্চুর কথা। তাঁর গান বাজে দেশের কোনোকোনায়। এমন একজন মিউজিশিয়ান যেকোনো দেশের জন্য গর্বের। জন্মদিন উদযাপনে আর কত বছর অপেক্ষা করতে হবে, সেটা সময়ই দেখাবে।’

উল্লেখ্য, ১৭ অক্টোবর হলো লালন সাঁইয়ের তিরোধন দিবস। ১৮৯০ সালের এই দিনে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ার নিজ আখড়ায় তিনি প্রয়াত হন।