ধারাবাহিক নাটকের কোনো কোনোটি বেশ জনপ্রিয় হয়। এ নাটকগুলো চলে অনেক দিন। কখনো কখনো শত পর্বও পার করে। এবার কেবল শত নয়, সাতশত পর্ব ছুঁতে যাচ্ছে ধারাবাহিক নাটক ‘বকুলপুর’। এটি নির্মাণ করেছেন গুণী নাট্যনির্মাতা কায়সার আহমেদ। দীপ্ত টিভিতে প্রচার হয় নাটকটি। মজার ব্যাপার হলো, এটি বকুলপুর ধারাবাহিকের ‘‌সিজন টু’। এর আগে প্রচার হয়েছে সিজন ওয়ান। সে সময় হয়তো নির্মাতারা ভাবেননি এতটা জনপ্রিয় হবে বকুলপুর। 

নির্মাতা কায়সার আহমেদ বলেন, ‘বকুলপুর ধারাবাহিকটি আমার জীবনের অন্যতম দর্শকপ্রিয় একটি নাটক। দর্শকের ভালোবাসার কারণেই নাটকটি এত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। নাটকের রচয়িতার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। কৃতজ্ঞতা দীপ্ত টিভিসহ সব শিল্পী কলাকুশলীদের প্রতি।’

ধারাবাহিক এ নাটক রচনা করেছেন আহমেদ শাহাবুদ্দিন। নাটকে নিগার চরিত্রে অভিনয় করে দারুণ আলোচনায় এসেছেন সময়ের নন্দিত অভিনেত্রী স্বর্ণলতা। বলা যায়, ঠিক এ মুহূর্তে নাটকের গল্প এগিয়ে চলছে তার বিবাহ সম্পর্কিত সমস্যা নিয়ে। এরই মধ্যে দীপ্ত টিভিতে ধারাবাহিকটির ৬৮৬তম পর্ব প্রচার হয়েছে। শিগগিরই নাটকটির ৭০০তম পর্ব প্রচার হবে। নির্মাতা কায়সার আহমেদ বেশ উচ্ছ্বসিত নাটকটি নিয়ে। কারণ এটি দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছে। নাটকে বাঁকা সরকার চরিত্রে অভিনয় করেও বেশ আলোচনায় আছেন মুকুল সিরাজ। অন্যদিকে বোরহান চরিত্রে অভিনয় করেও আরো দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছেন তানভীর মাসুদ। 

স্বর্ণলতা দেবনাথ বলেন, ‘নিগার চরিত্রটি আমার অভিনয় ক্যারিয়ারের জন্য একটি টার্নিং চরিত্র। এ ধারাবাহিকে অভিনয়ের পর আমি দর্শকের কাছ থেকে অনেক সাড়া পেয়েছি। শুটিংয়ের বাইরে যখন যেখানে গিয়েছি, নিগার হিসেবেই আমাকে চিনেছে অনেকে। তারা আমার সঙ্গে প্রবল আগ্রহ নিয়ে ছবি তুলতে চেয়েছে। কেউ কেউ শুধু কথাই বলতে চেয়েছে, এটা যে কত আনন্দের, ভালো লাগার তা ভাষায় প্রকাশের নয়। তাই কায়সার ভাইয়ের প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ, কৃতজ্ঞ পুরো বকুলপুর টিমের প্রতি।’ 

মুকুল সিরাজ বলেন, ‘বকুলপুর সিজন টুতে অভিনয় করে আমিও বাঁকা সরকার হিসেবে প্রচুর সাড়া পেয়েছি। এ নাটকের প্রতি একটা অন্য রকম মায়া আছে, যা ভাষায় প্রকাশের নয়।’ 

তানভীর মাসুদ বলেন, ‘বোরহান চরিত্রটি ধারাবাহিকটির মধ্যে একটি ব্যতিক্রম চরিত্র। সব চরিত্র থেকে সহজেই আলাদা করা যায়। আমার অভিনয় জীবনের সিগনেচার ক্যারেক্টার বোরহান। কৃতজ্ঞতা কায়সার ভাইয়ের প্রতি, অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা দর্শকের প্রতি।’ 

বাংলাদেশে ধারাবাহিক নাটকের চল খুব পুরনো। বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে নানা সময়ই দীর্ঘ ধারাবাহিক প্রচার হয়েছে। বকুলপুর সে ধারাবাহিকতাই রক্ষা করছে। এ নাটক পুরনো ধারার গ্রামীণ সমস্যা ও কমেডিকেন্দ্রিক হওয়ায় দর্শক নাটকটি উপভোগ করে। অপেক্ষা করে থাকে নতুন পর্বের জন্য। দীপ্ত টিভিতে প্রচারের পাশাপাশি দীপ্তর ইউটিউব চ্যানেল ও দীপ্ত প্লেতেও প্রচার হয় বকুলপুর।