অতি সম্প্রতি কমে গেছে সুপারহিরো সিনেমার চাহিদা। মার্ভেলের সব সিনেমা আশানুরূপ আয় করছে না। ডিসির সিনেমার দশাও বেহাল। কিন্তু সুপারহিরো সিনেমা নির্মাণ বন্ধ নেই। এ মাসেই মুক্তি পেয়েছে ‘অ্যাকুয়াম্যান অ্যান্ড দ্য লস্ট কিংডম’। ডিসির সিনেমাটি খুব বেশি ব্যবসা করতে পারবে না, তা প্রথম সপ্তাহেই বোঝা গেছে। মূলত সিনেমার ধারাই বদলে গেছে। সুপারহিরো সিনেমা যেভাবে শুরু হয়েছিল, এখনকার সিনেমার থিম তার চেয়ে আলাদা। কিন্তু ক্রিস্টোফার নোলান মনে করেন, এখন যত সুপারহিরো সিনেমা নির্মিত হচ্ছে তার সবগলোতেই আছে জ্যাক স্নাইডারের ছাপ।
ডিসির সুপারহিরো জনরার সিনেমায় কিংবদন্তি স্নাইডার। ওয়ার্নার ব্রোসের সঙ্গেই বেশি কাজ করেছেন তিনি। এর মধ্যে স্নাইডার নির্মিত ম্যান অব স্টিলের (২০১৩) প্রযোজক ছিলেন নোলান। সে সময় স্নাইডারের সঙ্গে কাছ থেকে কাজ করেছেন নোলান। সে সূত্রেই নোলান বলেন, ‘এখন যেসব সুপারহিরো বা সায়েন্স ফিকশন সিনেমা হচ্ছে, তার কোনোটাই স্নাইডারের প্রভাবমুক্ত নয়।’
ক্রিস্টোফার নোলান নিজেও ‘দ্য ডার্ক নাইট ট্রিলজি’ (ব্যাটম্যান) নির্মাণ করেছেন। সুপারহিরো সিনেমা নিয়ে তার অভিজ্ঞতা অনেক। তিনি আরো বলেন, ‘আপনি যখন জ্যাক স্নাইডারের একটা সিনেমা দেখেন, সিনেমার প্রতি তার ভালোবাসা সেখানে খুঁজে পাবেন। তিনি জানেন, সিনেমাটি কতটা সুন্দর হতে পারে। জ্যাক বাস্তবতার একটা ছাপ রাখেন, কিন্তু তা এমনভাবে করেন যে এতে মানুষের আগ্রহও থাকবে।’
স্নাইডারের সিনেমার নিজস্ব একটা ধারা বা ধাঁচ আছে। তিনি সিনেমায় নিজের মতো কালার গ্রেডিং করেন। একালের দর্শকের মতো তা অনেকটাই অন্ধকার। কিন্তু স্নাইডার যে সময় সিনেমা নির্মাণ করতেন তখন এটিই ছিল নতুন ধারা। মূলত মার্ভেল এখন এক ধারার সুপারহিরো সিনেমা নির্মাণ করে যেখানে গ্ল্যামার, কমেডি ও চিত্তাকর্ষক রঙ ব্যবহার করা হয়। স্নাইডার তা করতেন না। মার্ভেলের জনপ্রিয়তার মধ্যে স্নাইডারের সিনেমার চাহিদা কমে গেছে।
জ্যাক স্নাইডার এ সময় নির্মাণ করেছেন ‘রেবেল মুন: পার্ট ওয়ান—আ চাইল্ড অব ফায়ার’। সিনেমাটি একটি স্পেস অপেরা। এ নিয়ে তিনি আছেন চার্টের শীর্ষে। এটি অবশ্য খুব বেশি রেটিং পয়েন্ট পাচ্ছে না। তবে স্নাইডার আবার এ সিনেমার মধ্য দিয়ে ফিরেছেন নিজের মতো করে। আর এদিকে নেটফ্লিক্সে সিনেমাটি স্ট্রিম শুরুর পর তিনদিনে প্রায় আড়াই কোটি ভিউ পেয়েছে।
স্নাইডারের কাজের ছাপ সম্পর্কে নোলানের কথাটি সত্য। মার্ভেলের বাইরে যেকোনো সুপারহিরো সিনেমায় স্নাইডারের ছাপ পাওয়া যায়। এমনকি সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমা ‘সালার’ও স্নাইডারের সিনেমাটোগ্রাফি থেকে প্রভাবিত।
সূত্র: ভ্যারাইটি










