নাট্যসংগঠন স্বপ্নদল প্রযোজিত কাব্যনাট্য ‘চিত্রাঙ্গদা’। কেবল দেশে নয়, বিদেশেও প্রশংসিত এ নাটক। এবার নাটকটির ১০১ ও ১০২তম মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকাল পরপর দুটি মঞ্চায়ন হবে চিত্রাঙ্গদার। সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা ও সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটারে মঞ্চায়ন হবে চিত্রাঙ্গদার। 

রবীন্দ্রনাথ মহাভারতের চিত্রাঙ্গদা অবলম্বনে ১৮৯২ সালে কাব্যনাট্য এবং ১৯৩৬ সালে নৃত্যনাট্যরূপে ‘চিত্রাঙ্গদা’ রচনা করেন। স্বপ্নদলের ‘চিত্রাঙ্গদা’ নির্মিত হয়েছে কাব্যনাট্যের পাণ্ডুলিপি অবলম্বনে। এর নাট্যকাহিনীতে উপস্থাপন হয় মহাভারতেরই গল্প। দেখা যায়, মহাবীর অর্জুন সত্যপালনের জন্য এক যুগ ব্রহ্মচর্যব্রত গ্রহণ করে মণিপুর বনে এসেছেন। মণিপুর-রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা অর্জুনের প্রেমে উদ্বেলিত হলেও অর্জুন রূপহীন চিত্রাঙ্গদাকে প্রত্যাখ্যান করেন। অপমানিত চিত্রাঙ্গদা প্রেমের দেবতা মদন ও যৌবনের দেবতা বসন্তের সহায়তায় এক বছরের জন্য অপরূপ সুন্দরীতে রূপান্তরিত হন। এবারে অর্জুন যথারীতি চিত্রাঙ্গদার প্রেমে পড়েন। কিন্তু অর্জুনকে লাভ করেও চিত্রাঙ্গদার অন্তর দ্বন্দ্বে ক্ষত-বিক্ষত হতে থাকে—অর্জুন প্রকৃতপক্ষে কাকে ভালোবাসেন, চিত্রাঙ্গদার বাহ্যিক রূপ নাকি তার প্রকৃত অস্তিত্বকে? এভাবে ‘চিত্রাঙ্গদা’ পৌরাণিক কাহিনীর আড়ালে যেন এ কালেরই নর-নারীর মনোদৈহিক সম্পর্কের টানাপড়েন এবং পাশাপাশি পারস্পরিক সম্মানাবস্থানের প্রেরণারূপে উপস্থাপিত হয়। 

‘চিত্রাঙ্গদা’ প্রযোজনার গ্রন্থিকরা হলেন সোনালি, জুয়েনা, শিশির, শ্যামল, অর্ক, সুমাইয়া, সামাদ, ঊষা, জেবু, আলী, বিপুল, নিসর্গ, হাসান, সুকুমার, তুষার, রাজীব, বিমল, অনিন্দ্য প্রমুখ।