বাংলাদেশের সিনেমার নায়করাজ রাজ্জাক ও মিয়া ভাইখ্যাত নায়ক ফারুকের শূন্যতা জীবন চলার পথে অনুভব করেন সংসদ সদস্য ও অভিনেতা ফেরদৌস আহমেদ। চলচ্চিত্রজগতে দীর্ঘদিনের পদচারণার সুবাদে নায়ক রাজ্জাক ও ফারুকের সঙ্গে বিভিন্ন সিনেমায় অভিনয় করেছেন ফেরদৌস। রাজ্জাকের ৭৫তম জন্মদিন বিশেষভাবে উদযাপন করা হয় চ্যানেল আইতে। সে সময় নিমন্ত্রিত অতিথিদের মাঝে ফেরদৌসও ছিলেন। নায়করাজ রাজ্জাক ফেরদৌসকে ভীষণ পছন্দ করতেন, স্নেহ করতেন। যে কারণে তার পরিচালিত ‘বাবা কেন চাকর’ সিনেমায় ফেরদৌসকে নিয়েছিলেন। সিনেমাটিতে ফেরদৌসের অভিনয়ও বেশ প্রশংসিত হয়। অন্যদিকে একই অনুষ্ঠানে রাজ্জাককে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে নায়ক ফারুকও উপস্থিত হয়েছিলেন। রাজ্জাক, ফারুক ও ফেরদৌস একই ফ্রেমে ক্যামেরাবন্দিও হয়েছিলেন। 

নায়করাজ রাজ্জাক ও ফারুককে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে ফেরদৌস বলেন, ‘আমাদের চলচ্চিত্রের নায়করাজ রাজ্জাক ও আমাদের প্রিয় মিয়া ভাই অর্থাৎ ফারুক ভাইকে চলার পথে ভীষণ মিস করি। রাজ্জাক আঙ্কেল আমাকে ভীষণ আদর করতেন, স্নেহ করতেন। আমাকে এতটাই ভালোবাসতেন যে তার পরিচালিত সিনেমা বাবা কেন চাকরে আমাকে কাস্ট করেছিলেন।’ 

চিত্রনায়ক ফেরদৌসের দাবি, বাবা কেন চাকর এখনো দর্শক ইউটিউবে উপভোগ করেন। আলোচনায় চলে আসে সিনেমাটির বিভিন্ন প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, ‘চলচ্চিত্রের দিকপাল ও অভিভাবক ছিলেন নায়করাজ। তার চলে যাওয়ায় সত্যিই আমাদের ক্ষতি হয়েছে। আজকের দিন পর্যন্ত আল্লাহ যদি তাকে বাঁচিয়ে রাখতেন তাহলে চলচ্চিত্র আরো কিছু সুন্দর দিন পেত। কিন্তু এটাই সত্যি, একসময় সবাইকেই ছেড়ে চলে যেতে হয় এ পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে। মিয়া ভাই জীবনের শেষ সময়ে এসে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। নায়ক হয়েও তিনি যেমন দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছিলেন, সংসদ সদস্য হিসেবেও জনগণের ভালোবাসা পাচ্ছিলেন। তার মতোই আমি। আমিও এখন সংসদ সদস্য। জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছি প্রতিনিয়ত। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রায়ই ফারুক ভাইয়ের কথা ভীষণ মনে পড়ে। আল্লাহ দুজনকেই বেহেশত নসিব করুন।’