এবার ঈদুল ফিতর ও বাংলা নববর্ষকে ঘিরে বিনোদন পাড়ার ব্যস্ততা যেন দ্বিগুণ। নতুন সিনেমা ও নাটকের ব্যস্ততার মধ্যে তাদের ঈদ প্রস্তুতি চলে। কাজী নওশাবা আহমেদও তেমনি ব্যস্ত অভিনেত্রী। ঢাকাই থিয়েটারের মধ্য দিয়ে অভিনয়যাত্রা শুরু হয়েছিল তার। সামনে আসছে নওশাবার নতুন একটি সিনেমা। ঈদের ব্যস্ততা ও প্রস্তুতি প্রসঙ্গে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা হয়েছে নওশাবা আহমেদের। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ফারিহা আজমিন
ঈদের কাজ নিয়ে কেমন ব্যস্ততা পার করছেন?
ঈদ সামনে রেখে আমার দুটো সিনেমা রিলিজ পাচ্ছে। মূল ব্যস্ততা এখন সিনেমা প্রচারণা নিয়েই। পাশাপাশি আমি আমার বন্ধুদের নিয়ে একটি প্লাটফর্ম তৈরি করেছি ‘টুগেদার উই ক্যান’ নামে। সে প্লাটফর্ম থেকে আমরা প্রতিবন্ধীদের নিয়ে একটি থিয়েটার করছি। শোটি এপ্রিলেই হবে। যেহেতু এ প্রডাকশনের ডিরেকশন আমি দিচ্ছি, তাই সেখানেও প্রমোশন নিয়ে বেশ ব্যস্ততায় কাটছে। নাটকের নাম দিয়েছি আমরা ‘থ্রি বেনী’। ২৬ ও ২৭ এপ্রিল আমাদের শোটি হবে জাতীয় নাট্যশালায়। আমি আসলে এ ধারার কাজের সঙ্গেই যুক্ত থাকতে পছন্দ করি।
ঈদের পোশাক নির্বাচনে কোন বিষয়গুলো গুরুত্ব দেন?
আমি সত্যি বলতে একটু বোরিং আছি। আমি খুব বেশি কেনাকাটা করতে পছন্দ করি না। তবে ঈদে আমার মা ও মেয়ের জন্য পোশাক কেনা হচ্ছে কিনা এটি আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমার রেসপন্সিবিলিটি এটি এবং আমি বিষয়টি খেয়াল রাখি।
অভিনেত্রী হওয়ার কারণে পোশাক নিয়ে একটু সচেতন থাকতে হয়। তবে এটি আমার কাছে ভীষণ চাপের মনে হয়। কারণ আমি শপিং করতে পারি না, বুঝিও না। তাই প্রতিটি অনুষ্ঠানে সুন্দরভাবে পরিপাটি হয়ে যেতে হবে এটি আমার কাছে ভীষণ চাপের। আমি চারুকলার ছাত্রী ছিলাম। একদম ঢিলেঢালা পোশাক পরা, মানে ছবি আঁকতে পারলেই হলো। আমি এমনই ছিলাম এবং এখনো আমার কাছে ঢিলেঢালা পোশাক, কপালে একটা টিপ ব্যস হয়ে গেল। তবে অভিনয় জগতে একটু চাপ আছে। সবসময় সুন্দর লাগতে হবে, খুব গর্জিয়াসভাবে থাকতে হবে। যে বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে আমার জন্য খুব চাপের।
আপনাকে পর্দায় বেশ পরিপাটি লাগে। আপনি পোশাকের সঙ্গে অ্যাকসেসরিজ কী পছন্দ করেন?
আমার বিষয়টি হচ্ছে আমাকে কেউ একটা সাধারণ কানের দুল এনে দিল, আমি হয়তো কিছু একটা করে সেটাকে একটু বদলে নিজের মতো করে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে পারি বা পরে ফেলতে পারব। হয়তোবা আমি চারুকলার শিক্ষার্থী হওয়ার ফলেই এ শৈল্পিক বিষয়গুলো চলে আসে। সে কারণেই হয়তোবা মনে হয় খুব পরিকল্পিত এ বিষয়গুলো। তবে এ রকম নয়। আমার জামাকাপড়, অ্যাকসেসরিজ সবকিছুই খুব সাডেন প্ল্যান।
তারকা খ্যাতির কারণে শপিংয়ে গিয়ে কোনো বিড়ম্বনায় পড়েছেন?
আমার কাছে শপিং মানেই বিড়ম্বনা। আমার জন্য খুবই চাপের। আমাকে কোনো জায়গায় শপিংয়ে আপনি দেখবেনও না। আমাকে মা ও বন্ধুরাই বেশির ভাগ জামাকাপড় কিনে দেয়। তবে আমি বিড়ম্বনা বলব না। ভীষণ ভালোবাসা পাই আমি মানুষ থেকে। কেউ যখন চিনতে পারে, এসে ছবি তুলতে চায়। আমি এটা ভীষণ এনজয় করি। দোকানের শপকিপার হোক বা কোনো ক্রেতা। আমার বেশ ভালোই লাগে। আমার কাছে এটি আশীর্বাদ মনে হয়।
ছোটবেলার কোনো ঈদের স্মৃতি শেয়ার করবেন?
আমার ছোটবেলার ঈদ মানেই ছিল আমার বাবা। আমার বাবার সঙ্গে আমার সবকিছু ছিল। আমার বেড়ে ওঠার সব স্মৃতিতে আমার বাবা। ঈদে আমার হাতে আমার বাবা মেহেদি লাগিয়ে দিতেন। জামা কিনে দিতেন। আমি ঠিকই শপিংয়ে যাব না। তবে আমার কিছু নির্দিষ্ট পছন্দের রঙ আছে। যেমন সাদা আমার খুব পছন্দের রঙ। কীভাবে যেন আমার বাবা আমার সবকিছু বুঝতেন। আমাদের কিছু আলাদা সম্পর্ক থাকে না? তেমনি আমার আর বাবার সম্পর্ক ছিল। আমি রান্নাবান্না নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতে ভীষণ পছন্দ করি। আমার বাবা কখনো না করতেন না। আমার সব এক্সপেরিমেন্টাল বিষয় বাবা প্রাধান্য দিতেন। আমি একবার ডাবের আইসক্রিম বানাতে চেয়েছিলাম। আমার বাবা অনেকগুলো ডাব এনে দিয়েছিলেন। উনি এমনই করতেন। এ ব্যাপারটা আমি ভীষণ মিস করি। তবে আবার মিথ্যা প্রশংসা করতেন না। রান্না মজা না হলে তিনি সত্যিটাই বলতেন। আবার চেষ্টা করতে বলতেন। সে কারণেই আমি কখনো উৎসাহ হারাতাম না।
আমাকে একদম সবকিছুতে স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। যেভাবে সাজতে চাই, যে কাপড় পরতে চাই, রান্না, ঘর সাজানো সবকিছু। মায়ের সঙ্গে আমার সম্পর্ক অন্য রকম। মা-মেয়ের একটা আলাদা টান তো থাকেই। তবে ঈদ বলতে আমার বাবার সঙ্গেই আমার সবচেয়ে বেশি মধুর স্মৃতি।










