দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২১ মে চরকিতে মুক্তি পেতে যাচ্ছে এ বছরের আলোচিত সিনেমা ‘দম’। গতকাল বেলা ১টায় চরকির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হয়। সিনেমাটি মুক্তির ঘোষণার পর থেকেই চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মাঝে নতুন করে উন্মাদনা শুরু হয়েছে। বর্তমানে দেশ-বিদেশের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে সিনেমাটি সাফল্যের সঙ্গে প্রদর্শিত হচ্ছে। তবে বড় পর্দার সেই রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার রেশ কাটতে না কাটতেই ঘরে বসে সিনেমাটি দেখার সুযোগ করে দিচ্ছে চরকি। কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে ২০ মে রাত ১২টা বাজার পর থেকেই (অর্থাৎ ২১ মে, বাংলাদেশ সময়) সারা বিশ্বের দর্শকরা প্লাটফর্মটিতে সিনেমাটি উপভোগ করতে পারবে।

রেদওয়ান রনি পরিচালিত এই সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন আফরান নিশো, চঞ্চল চৌধুরী ও পূজা চেরি। সিনেমাটি মুক্তির পর থেকে দর্শক ও সমালোচক—উভয় মহলেই ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিশেষ করে এর কারিগরি দক্ষতা, সিনেমাটোগ্রাফি, কালার গ্রেডিং এবং ভিএফএক্সের কাজ দেখে অনেকেই একে হলিউড মানের বলে তুলনা করেছেন। অনেকের মতে, ‘দম’ বাংলা চলচ্চিত্রের মানকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে। বক্স অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ‘দম’ এখন পর্যন্ত এ বছরের ‘হায়েস্ট ওপেনার’, অর্থাৎ প্রথম সপ্তাহের টিকিট বিক্রিতে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা সিনেমা। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতেও এর সাফল্য ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে আমেরিকায় প্রথম সপ্তাহে মাত্র সাতটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেলেও দর্শক চাহিদার কারণে দ্বিতীয় সপ্তাহেই তা ৫০টি প্রেক্ষাগৃহে উন্নীত হয়।

আফগানিস্তানে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা এক বাংলাদেশীর সত্য ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মিত হয়েছে ‘দম’, যার ট্যাগ লাইন রাখা হয়েছে ‘আনটিল দ্য লাস্ট ব্রেথ’। এসভিএফ আলফা-আই ও চরকির যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত সিনেমাটির চিত্রনাট্য লিখেছেন সৈয়দ আহমেদ শাওকী, আল-আমিন হাসান নির্ঝর, মো. সাইফুল্লাহ রিয়াদ ও রবিউল আলম রবি। সিনেমার পরিচালক ও চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রেদওয়ান রনি বলেন, ‘আমি বরাবরই বলে এসেছি “‍দম” বাংলাদেশের এবং বাংলাদেশীদের জয়ের গল্প। চরকিতে মুক্তির মাধ্যমে এ জয়ের গল্প এবার সবার ঘরে পৌঁছে যাবে। আশা করছি, ঈদের আনন্দে পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঘরে বসে দর্শকরা এটি উপভোগ করবেন।’

অন্যদিকে এসভিএফ আলফা-আই এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার শাকিল বলেন, ‘প্রেক্ষাগৃহের দর্শকরা বলছেন “‍দম” বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে লেভেল আপ করেছে। এখন প্রেক্ষাগৃহ নেই বা দূরত্ব—এমন কোনো বাধা থাকছে না। বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে দর্শকরা এটি দেখতে পাবেন, এটাই আমাদের বড় প্রাপ্তি।’ যারা ব্যস্ততা বা দূরত্বের কারণে প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে নিশো-চঞ্চলের এ অনবদ্য অভিনয় মিস করেছেন, তাদের জন্য চরকির এ ঘোষণা এক বিশেষ উপহার হয়ে এসেছে।