ভারতীয় প্রবীণ অভিনেত্রী রত্না পাঠক শাহ। তিনি জনপ্রিয়তা পেয়েছেন পর্দায় নিজের চরিত্রগুলো অত্যন্ত সাবলীলভাবে ফুটিয়ে তোলার মধ্য দিয়ে। অভিনেত্রী ১৯৮২ সালে বিয়ে করেছেন আরেকজন জনপ্রিয় অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহকে। সম্প্রতি ব্রান্টের সঙ্গে ৭৭তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে স্বামী নাসিরুউদ্দীন শাহের নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন স্ত্রী রত্না পাঠক শাহ।
একটি বিষয় যা তিনি অন্য কারো মধ্যে দেখেননি, কিন্তু এ অসাধারণ বিষয় নাসিরুদ্দীনের মধ্যে রয়েছে। তবে এ বিষয় নিয়ে একসঙ্গে থাকাটাও কঠিন বলে মনে করেন রত্না। তিনি বলেন, ‘আমি ভালোবাসি নাসিরের অভিনয়ের সঙ্গের সংযুক্ততা। আমি একই সঙ্গে ভালোবাসি, ঘৃণা করি ও সহ্যও করি এই একটি বিষয়। তবে আমি সবচেয়ে বেশি পছন্দ করি এটি, কারণ এটি একটি আলাদা গুণ তার। নাসির কখনই বিরক্ত হয় না যদি কাজটি তার অভিনয় বা পারফরম্যান্সের কোনো বিষয় হয়। এ বিষয় আমি অন্য কোনো অভিনেতার মধ্যে দেখিনি। তবে এমন কারো সঙ্গে একসঙ্গে থাকাটাও আবার কঠিন।’
এছাড়া অভিনেত্রী রত্না ও নাসিরুদ্দীন প্রায় ৪২ বছর ধরে বিবাহিত জীবন অতিবাহিত করছেন। এ যুগলের দেখা হয়েছিল ‘সাম্ভোগ সে সন্ন্যাস তক’ (১৯৭৫) নাটকের রিহার্সেলের সময়। এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা নাসিরুদ্দীন বলেছেন, ‘থিয়েটারের সব অসাধারণ ভালোবাসার গল্প রিহার্সেলে এসেই তৈরি হয়েছে।’ এছাড়া ভারতীয় বিনোদন মাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে রত্না বলেন, ‘আমাদের প্রথম কাজ সাম্ভোগ সে সন্ন্যাস তক আমাদের জীবনের সঙ্গে মিলে গেছে। এখন শুধু শেষ যাত্রা বাকি।’
প্রায় ছয় বছর প্রেমের পর তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটি ছিল অভিনেতা নাসিরুদ্দীনের দ্বিতীয় বিয়ে। এর আগে নাসিরুদ্দীন সুরেখা শ্রীকে বিয়ে করেছিলেন। তবে রত্না পাঠক শাহ তাদের সফল বিয়ের পেছনের কারণ বলতে গিয়ে বলেছেন, ‘নাসির আমাদের সম্পর্কের শুরুর দিকেই আমাকে বলেছিল, ‘‘একটি সম্পর্ককে স্বামী-স্ত্রী, প্রেমিক-প্রেমিকা এ ধরনের তকমা দেয়া কখনই ভালো ভাবনা নয়। কেন এমন করতে হবে, যেখানে তুমি নিজেই নিজেকে সবচেয়ে বড় পরিচিতি ‘মানুষ’ হিসেবে রাখতে পার।’’ এ ভাবনা খুবই সহায়ক। সৌভাগ্যবশত, আমরা আমাদের সন্তানদের সঙ্গেও এভাবেই চলতে পারছি।’
সূত্র ও ছবি: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস










