কাল শুরু হচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৪। এবারের আসরে বরাবরের মতোই অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। তারকারা কাজের ব্যস্ততার পাশে এ আসর নিয়ে কৌতূহলী। কী আশা করছেন তারা? এ নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ, অভিনেতা ইমতিয়াজ বর্ষণ ও নির্মাতা আশফাক নিপুণ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ফারিহা আজমিন ও শাকেরা তাসনীম ইরা
‘আনন্দ নিয়ে খেলা উপভোগ করি’
কাজী নওশাবা আহমেদ
ক্রিকেট নিয়ে আগ্রহ কতটা? নিয়মিত ফলো করা হয় কি?
আমি খেলাধুলা নিয়ে অনেক কৌতূহলী। সবাই মিলে বসে ক্রিকেট খেলা দেখার আনন্দই আলাদা। কিন্তু আমার একটি বিষয় হলো নির্দিষ্ট কোনো দলকে সাপোর্ট করা হয় না। বাংলাদেশ আমাদের নিজেদের টিম। বাংলাদেশের খেলা যখন, তখন তো আর কোনো কথা হবে না। তবে আমাদের টিম ছাড়া আমি ক্রিকেট নিয়ে খুব সিরিয়াস হই না। আমি তখন আনন্দ নিয়ে কেবল দুই দলের খেলা উপভোগ করি।
প্রিয় খেলোয়াড়?
আমার সবচেয়ে পছন্দের খেলোয়াড় ভারতীয় ক্রিকেটার বিরাট কোহলি। বিরাটের ব্যক্তিত্ব, খুব চমৎকার বলে আমার মনে হয়। নিজেদের কথা যদি বলি, বাংলাদেশ টিমে আমার সবসময়ই পছন্দের খেলোয়াড় মাশরাফি। এছাড়া তামিম সাকিবও আছে। তবে এখন সাকিবের ক্যাপ্টেন্সি আমার ভালো লাগে।
ক্রিকেটে প্রিয় দল?
তেমন কোনো নির্দিষ্ট দলকে আমি সাপোর্ট করি না। তবে সাউথ আফ্রিকানদের খেলা আমার বেশ ভালো লাগে।
শৈশবে ক্রিকেট নিয়ে কোনো মজার স্মৃতি?
আমার ছোটবেলার সব স্মৃতিতে আমাদের পুরো পরিবার। তখন সবাই একসঙ্গে থাকতাম। আমাদের সবকিছু একসঙ্গে করা হতো। সবাই বসে হইহুল্লোড় করে খেলা দেখার মজাই ছিল অন্যরকম। গ্যালারিতে গিয়েও আমরা একই কাজ করতাম। আবার আমাদের পারিবারিক যেকোনো অনুষ্ঠান মানেই ছিল সবাই মিলে একটা ক্রিকেট ম্যাচ।
এবার জুন থেকে শুরু হতে চলেছে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট মেন্স ওয়ার্ল্ডকাপ ২০২৪, এ নিয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে?
হ্যাঁ, খেলা দেখা হবে। তবে ছোটবেলা থেকেই আমার আগে থেকে কোনো দল ঠিক করা থাকত না, দেখা যেত খেলা দেখতে গিয়েই ঠিক করতাম আমি আজকে কোন দলের সাপোর্টার। তবে আমি হইহুল্লোড় করতে ভীষণ পছন্দ করি। তাই খেলা দেখার কোনো সুযোগ হারানো যাবে না।
‘একসময় অনেক ক্রিকেট খেলেছি’
ইমতিয়াজ বর্ষণ
ক্রিকেট নিয়ে আগ্রহ কেমন?
ক্রিকেট আমার অনেক পছন্দের খেলা। তবে আমি খুব সিরিয়াস হয়ে কেবল বাংলাদেশ দলের খেলাই দেখি। নিয়মিতভাবে খুব একটা অন্য টিমের খেলা দেখা হয় না।
বাংলাদেশ আমাদের নিজের দল। এর বাইরে গিয়ে অন্য কোনো পছন্দের দল আছে কি?
হ্যাঁ, অস্ট্রেলিয়ার খেলা আমার ভালো লাগে। তবে সবসময় দেখা হয় না সেভাবে।
পছন্দের ক্রিকেটার?
আমার ভীষণ পছন্দের ক্রিকেটার আমাদের সাকিব আল হাসান। বর্তমানে ক্রিকেট কম দেখা হয়। এখন অনেক নতুন নতুন ক্রিকেটার এসেছে। তাদের সেভাবে খুব একটা জানি না। তবে ভালো লাগবে নিজেদের টিম যদি ভালো করে।
ক্রিকেট খেলা নিয়ে শৈশবের কোনো স্মৃতি?
আমার বেড়ে ওঠা চট্টগ্রাম শহরে। একসময় বাসার গলিতে, নিজেদের পাড়ায় অনেক ক্রিকেট খেলেছি। তবে বেশ মজার স্মৃতি বলতে পাড়ার বড় ভাইদের সঙ্গে অনেক দূরে চলে যেতাম খেলতে। আমাদের বাসা থেকে খেলার মাঠগুলো অনেক দূরে ছিল। তাই আমরা সবাই মিলে সেখানে চলে যেতাম। কখনো ভাবতাম না, কীভাবে আবার বাড়ি ফিরব। এখন ভাবি এত দূরে চলে যেতাম কোনো ভাবনা ছাড়াই, শুধু ক্রিকেট খেলতে!
এবারের টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ দলের কাছে আপনার প্রত্যাশা কী?
আমি সবসময়ই ক্রিকেট বলতে বাংলাদেশ টিমকেই সাপোর্ট করি এবং খেলাও দেখি। এবারো একই ইচ্ছে আছে। প্রথম থেকেই নিজেদের খেলা দেখব। তবে বিশ্বকাপ যেহেতু মোটামুটি অনেক ম্যাচই দেখা হবে। ফাইনাল, সেমিফাইনালের ম্যাচগুলোও দেখা হবে পরিবার বা বন্ধুরা মিলে। বাংলাদেশ টিমে এখন অনেক নতুন খেলোয়াড় এসেছে। তাই আশা করছি ভালো করবে দল।
‘ভালো খেলার চর্চাটা থাকুক’
আশফাক নিপুণ
ক্রিকেট নিয়ে আপনার আগ্রহ কেমন?
সত্যি বলতে ক্রিকেট নিয়ে আগ্রহ এখন একটু পড়তির দিকে। আমি মূলত ফুটবল ফ্যান। শুধু বিশ্বকাপ ফুটবল না, ক্লাব ফুটবল দেখি নিয়মিত। আন্তর্জাতিকভাবে ফুটবল নিয়ে সারা বছর যত ইভেন্ট থাকে, সেগুলো অনুসরণ করতে করতে ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ একটু কমে গেছে।
খেলা দেখার মতো সময় পান?
খেলা দেখার মতো সময় পাই না বললে ভুল হবে। যদি উত্তেজনাপূর্ণ কোনো ম্যাচ হয় তাহলে দেখি। বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের অনেক ফ্যান আছে, যারা প্রত্যেকটা খেলা খুব মনোযোগ দিয়ে দেখে। আমি সেটা করতে পারি না। তবে যখন কোনো উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত চলে আসে খেলায় তখন দেখতে বসে যাই। হয়তো এটা বাঁচা-মরা ধরনের একটা মুহূর্ত, যা মিস করতে চাই না।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আসছে। আপনার ফেভারিট টিম কারা?
অবশ্যই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আমার ফেভারিট টিম বাংলাদেশ। বাংলাদেশ যেহেতু খেলছে, আমি অবশ্যই চাইব বাংলাদেশ যেন শিরোপা জয় করে। বাংলাদেশ যেহেতু এখন ভালোভাবে খেলছে, অবশ্যই চাইব তারা জিতুক। বাংলাদেশের জয়ের পরিবর্তে আর কোনো দলের জয় কামনাও করি না।
বাংলাদেশের কাছ থেকে প্রত্যাশা কী?
বাংলাদেশে টিম শিরোপা জিতুক এটা আমি চাই। তবে শিরোপা জয়ের প্রত্যাশার চাপটা আমি বাংলাদেশ টিমকে দিতে চাই না। আমি চাই না কেউই সেটা দিক। কারণ দুই ধরনের ফলাফল আসে খেলাতে—একটা রেজাল্ট বেইজড আরেকটা কনসিস্টেন্সি বেইজড। আমি চাই বাংলাদেশ টিম যেন কনসিস্টেন্টলি অর্থাৎ ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলে। আবার ধারাবাহিকভাবে ভালো খেললেই যে ফলাফল ভালো আসবে তা নয়। তবু অন্তত ভালো খেলার চর্চাটা থাকুক।










