বলিউড অভিনেতা ইমরান খান। ২০০৮ সালে ‘জানে তু ইয়া জানে না’ সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে। তবে পর্দায় এ অভিনেতাকে ২০১৫ সালের ‘কাট্টি বাট্টি’ সিনেমার পর আর দেখা যায়নি। সম্প্রতি তিনি নিজেই জানিয়েছেন, কেন চলচ্চিত্র অঙ্গন ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পাশাপাশি ইমরান আলোচনা করেছেন কীভাবে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি শুধু একজন অভিনেতার বক্স অফিস আয় বা কেবল আর্থিক দিকগুলোয়ই ফোকাস করে। ভারতীয় বিনোদনমাধ্যম ফিল্ম কম্প্যানিয়নের সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে ইমরান বলেন, ‘চলচ্চিত্র জগতে একজন অভিনেতাকে ঘিরে অনেক ধরনের অনুঘটক থাকে। সিনেমার প্রচার, জনসংযোগ ও সব ব্যবস্থাপনাসহ নানা বিষয় জড়িয়ে থাকে। এ ইন্ডাস্ট্রিতে প্রত্যেকেরই শুধু আর্থিক বিষয়গুলোর ওপর ফোকাস করার একটি প্রবণতা রয়েছে। সিনেমা, অনুমোদন, নিজেদের উপস্থিতি, এমনকি একটি অনুষ্ঠানে ফিতা কাটার মতো ছোটখাটো বিষয় থেকেও একজন কতটা অর্থ উপার্জন করে সেগুলোও। তাছাড়া ইন্ডাস্ট্রিতে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আর্থিক দৃষ্টিকোণ সাফল্যের প্রাথমিক মাপকাঠিতে পরিণত হয়।’
ইমরান বুঝতে পেরেছিলেন, চলচ্চিত্রের প্রতি তার ভালোবাসা কেবল অর্থের জন্য নয়। তবে কাট্টি বাট্টি সিনেমা ফ্লপ হওয়ার কারণেই তিনি ইন্ডাস্ট্রি ছেড়েছেন কিনা, এমন প্রশ্নাত্তরে তিনি ‘হ্যাঁ’ বলেন। যদিও তার দাবি, সে মুহূর্তেই তিনি ইন্ডাস্ট্রি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেননি। তিনি বলেন, এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া ছিল। এ ভাবনা এক সপ্তাহ থেকে এক মাস হয়েছে, এক মাস তিন মাসে পরিণত হয় এবং এভাবে এক বছর হয়েছে দুই বছরে। তখনই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে ঠিক আছে, আমি আর এটি করব না। কারণ এ কাজে আমার আর মন নেই।’
সেই সঙ্গে ইমরান আরো জানিয়েছেন, সম্পূর্ণ নতুন বা ভিন্ন পথ হলেও তিনি সে পথ অন্বেষণ করতে ভয় পান না। এছাড়া ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করার ফলে জীবনের জন্য যে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেরেছেন তাই নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেন। ফলে তিনি জীবনের অন্য দিকগুলোয় ফোকাস করতে পারছেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তিনি এখন কী হতে চান বা কীভাবে তিনি বাঁচতে চান। উত্তরে ইমরান বলেন, ‘আমি আমার ২০ দশক কাটিয়েছি কাজ করে ও সিনেমা তৈরি করে বা নিজের ক্যারিয়ার গুছিয়ে। এরপর জীবন আমাকে অন্যদিকে নিয়ে গেছে। গত ১০ বছর আমি কে, আমি কী করতে চাই, আমি কী হতে চাই এমন সব প্রশ্নের সঙ্গে একধরনের লড়াই করেছি।’










