এবার ৭০তম বিএফআই লন্ডন উৎসবের মূল পর্বেই জায়গা পেয়েছে ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’। এটিই লন্ডনের উৎসবে মূল পর্বে স্থান পাওয়া প্রথম বাংলাদেশী সিনেমা। উৎসবের ‘বেস্ট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড’-এর জন্য নির্বাচিত হয়েছে ১০টি সিনেমা। তারই একটি ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’।
রুবাইয়াত হোসেনের চলচ্চিত্রটির সঙ্গে রয়েছে জাপানের হিরোকাজু কোরে-এদার ‘লুক ব্যাক’, ইউক্রেনের সের্গেই লোজনিতসার ‘ইম্পেরিয়াম’, যুক্তরাজ্যের ক্যারল মরলির ‘৭ মাইলস আউট’, হাঙ্গেরির লিলি হরভাটের ‘মাই নোটস অন মার্স’, আর্জেন্টিনার বেঞ্জামিন নাইশতাটের ‘গ্ল্যাক্সো’, আইরিশ নির্মাতা জুটি ক্রিস্টিন মলয় ও জো ললারের ‘অ্যাক্ট ৩’, ইতালির জিওভান্নি তরতোরিচির ‘কেটিসে’, পোল্যান্ডের মালগোর্জাতা সুমোভস্কা ও মাইকেল এঙ্গলার্টের ‘দ্য ইডিয়টস’ এবং ডেনমার্কের মে এল-তুখির ‘উইমেন আননোন’।
‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ একটি মনস্তাত্ত্বিক হরর চলচ্চিত্র। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ‘মেফেয়ার’ বিউটি পার্লারকে কেন্দ্র করে নির্মিত চলচ্চিত্রটির গল্পে জাইনীন নামের এক তরুণী বিয়ের প্রস্তুতির জন্য পার্লারে আসে। প্রস্তুতি এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সৌন্দর্য, শরীর, বিশ্বাস, স্মৃতি ও ভয়কে ঘিরে এক অস্বস্তিকর ও রহস্যময় জগতে সে ধীরে ধীরে জড়িয়ে পড়ে।
চলচ্চিত্রটির প্রধান চিত্রগ্রহণ শুরু হয় ২০২৫ সালের ৮ জুন এবং শেষ হয় ৮ জুলাই। মোট ২৬ দিনে শুটিং সম্পন্ন হয়। পোস্ট-প্রডাকশনের কাজ হয়েছে ফ্রান্সের প্যারিস এবং পর্তুগালের লিসবনে। চলচ্চিত্রটির চূড়ান্ত শব্দ মিশ্রণের কাজ সম্পন্ন হয় প্যারিসে।
ফ্রান্সের ল্য ফিল্মস দেলাপে-মিদি ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর মূল প্রযোজক। সহপ্রযোজনা করেছে পর্তুগালের মিদাশ ফিল্মেশ, বাংলাদেশের খনা টকিজ, নরওয়ের বারেন্টসফিল্ম এএস এবং জার্মানির ট্যান্ডেম প্রডাকশন। চলচ্চিত্রটির আন্তর্জাতিক বিক্রির দায়িত্বে রয়েছে ফিল্মস বুটিক।
‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন জাইনীন চৌধুরী করিম। সহ-অভিনয়ে রয়েছেন রিকিতা নন্দিনী শিমু ও সুনেরাহ কামাল। অতিথি চরিত্রে অভিনয় করেছেন আজমেরী হক বাঁধন ও দামীর খান। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাংলাদেশের বরেণ্য অভিনয়শিল্পী শতাব্দী ওয়াদুদ, সাবেরী আলম ও মোহাম্মদ বারী।
ফোন্দাৎসিওনে প্রাদা ফিল্ম ফান্ডের প্রথম আসরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে জমা পড়া ১ হাজার ২০০টির বেশি প্রকল্পের মধ্য থেকে মাত্র ১৪টি চলচ্চিত্র সহায়তার জন্য নির্বাচিত হয়। নির্বাচিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্বর্ণপামজয়ী থাই নির্মাতা আপিচাতপং বীরাসেথাকুলের নতুন চলচ্চিত্রও রয়েছে। ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ নির্বাচিত ১৪টি চলচ্চিত্রের মধ্যে পোস্ট-প্রডাকশন পর্যায়ে সহায়তা পাওয়া একমাত্র চলচ্চিত্র।









