শীতের শুরুতেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। আক্রান্তদের অধিকাংশই শিশু। প্রতিদিনই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে ৩০-৪০ রোগী। জেলা সদর হাসপাতালে স্যালাইন ও পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীদের। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, শয্যার অভাব ও স্যালাইন সরবরাহ না থাকায় কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২৫০ শয্যার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে শিশুদের জন্য ২০টি শয্যা বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু এ বছর বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে যে শয্যা রয়েছে, তা ২০-২৫ জনকে দেয়া সম্ভব। তাই রোগীদের মেঝেতেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফাইজুর রহমান ফয়েজ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এবার শীতে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বেশি। তবে এবার বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা, যাদের বয়স ছয় মাস থেকে এক বছর। দুই-একদিনের মধ্যে রোগীদের স্যালাইন দিতে পারব। হাসপাতালে বর্তমানে ৯৬ ডায়রিয়া রোগী ভর্তি রয়েছে। শুধু শুক্রবার ৪১ রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে তিন ভাগের দুই ভাগই শিশু।’

সরজমিন ২৫০ শয্যার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি চট ও চাদর বিছিয়ে মাটিতে শুয়ে আছে রোগী এবং স্বজনরা। সেখানেই চিকিৎসা দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া আব্দুল্লাহ নামে এক শিশুর মা বলেন, ‘গত দুদিন থেকে ছেলের পাতলা পায়খানা। শুক্রবার রাতে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। কিন্তু শীতের দিনে শয্যা না পেয়ে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। হাসপাতাল থেকে স্যালাইনও দিচ্ছে না।’

মানিক মিয়া নামে আরেক অভিভাবক বলেন, ‘শুক্রবার সকালে ডায়রিয়া আক্রান্ত ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। কিন্তু শয্যা না থাকায় মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।’

শহরের পৈরতলা এলাকার জহির বলেন, ‘শুক্রবার রাতে ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। শয্যা খালি নেই। বারান্দায়ও কম্বল বিছিয়ে থাকতে হচ্ছে গাদাগাদি করে। এতে শিশুদের ডায়রিয়া ভালো করতে এসে সর্দি লেগে যাচ্ছে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ একরাম উল্লাহ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘শীতে প্রতি বছর শিশুদের ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ দেখা দেয়। এবারো বেড়েছে। এবার শিশুরা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। হাসপাতালে পর্যাপ্ত খাবার স্যালাইনসহ অন্যান্য ওষুধ সরবরাহ আছে। সবাই চিকিৎসা পাচ্ছে।’