খুলনায় প্রথমবারের মতো পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনে সফল হয়েছেন জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নের পঞ্চু গ্রামের কৃষক তড়িৎ বিশ্বাস। কৃষি বিভাগের সহায়তায় ৫০ শতক জমিতে তিনি এ পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন করেন। এতে তার লাখ টাকা আয় হবে।

কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পেঁয়াজ উৎপাদন ও বীজ সংরক্ষণ বাড়াতে এ বীজ উৎপাদন মৌসুমে স্বল্প মুনাফায় স্থানীয় চাষীদের কাছে বিক্রি করা হবে।

কৃষক তড়িৎ বলেন, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পেঁয়াজের কন্দ দেয়া হয়। ৫০ শতক জমি বর্গা নিয়ে তাতে ১৩ মণ কন্দ লাগিয়েছিলাম। সেখান থেকে ২৫ মণ পেঁয়াজ এবং ২৫ কেজি বীজ উৎপাদন হয়েছে। এতে ৪০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। এরই মধ্যে ৪০ হাজার টাকার বেশি পেঁয়াজ ও ৩ হাজার টাকার মতো কলি বিক্রি করেছি। বীজগুলো সংরক্ষণ করা হয়েছে। কৃষি অফিসের সহায়তায় পেঁয়াজ উৎপাদন মৌসুমে স্বল্প মুনাফায় কৃষকদের কাছে বিক্রি করব। এ বীজ ১ লাখ টাকার ওপরে বিক্রি হবে। আগামী বছর এ বীজ দিয়ে চাষ করার ইচ্ছাও জানান তিনি।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, পেঁয়াজ একটি উচ্চমূল্যের ফসল। বীজের দামও অনেক বেশি। এবার পেঁয়াজ উৎপাদন মৌসুমে প্রতি কেজি বীজ ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হয়েছিল। দরিদ্র কৃষকদের অনেকের পক্ষে বীজ কিনে পেঁয়াজ উৎপাদন সম্ভব হয় না।

তিনি বলেন, এ কারণে আমরা কৃষক পর্যায়ে ডাল, তেল, মসলার উন্নতমানের বীজ সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রকল্পের আওতায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা তড়িৎ বিশ্বাসকে প্রশিক্ষণ দিয়ে বীজ ও সার সরবরাহ করি। ফলনও ভালো হয়েছে। এটি আমাদের জন্য একটি বড় অর্জন। এবারই প্রথমবারের মতো খুলনায় পেঁয়াজের বীজ সংরক্ষণ করা হয়েছে। তার দেখাদেখি আগামীতে আরো কৃষক উৎসাহিত হবেন। পেঁয়াজের উৎপাদনও বাড়বে।

তিনি আরো বলেন, তড়িৎ বিশ্বাসের উৎপাদিত বীজ থেকে এক কেজি সংরক্ষণ করা হবে এবং বাকি বীজ তার মাধ্যমে স্থানীয় চাষীদের মাঝে বিক্রি করা হবে। এক কেজি বীজ ৫০ থেকে ৫২ শতক জমিতে লাগানো যাবে। নভেম্বরে পেঁয়াজ লাগানো হয় এবং এপ্রিলের শেষ পর্যায়ে ওঠানো হয়। ৫০ শতক জমিতে পেঁয়াজ, কলি ও বীজ উৎপাদন এবং সংরক্ষণে ২৫-৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। আয় হবে লাখ টাকার ওপরে।

খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, খুলনার মাটি পেঁয়াজ উৎপাদনের জন্য উপযুক্ত। ফরিদপুর থেকে পেঁয়াজের বীজ এনে অল্পস্বল্প পেঁয়াজ চাষাবাদ করা হয়। খুলনায় এবারই প্রথম এক বিঘা জমিতে বারি-১ জাতের কন্দ লাগিয়ে ২৫ কেজি পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন করা হয়েছে। তিনি বলেন, আগামীতে আরো বেশি পেঁয়াজের বীজ ও পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে আমাদের।