সাতক্ষীরা জেলায় হঠাৎ করেই গরুর খুরা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গত ১০ দিনে জেলায় এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ৭০টি গরু। এর মধ্যে মারা গেছে ৩৪টি। সাতক্ষীরা জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে। গরুর খুরা রোগের হঠাৎ প্রাদুর্ভাব বিপদগ্রস্ত করে তুলেছে গরুর খামারিদের।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের অভিযোগ, এ রোগ প্রতিরোধে সরকারি ভ্যাকসিন কোনো কাজে আসছে না। সাতক্ষীরা জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের বিষেশজ্ঞ ডাক্তাররা খামারে না গিয়ে অনভিজ্ঞ লোকজন পাঠিয়ে আক্রান্ত গরুকে ভ্যাকসিন দেয়ার কাজ করাচ্ছে। এতে ভ্যাকসিনের ভুল প্রয়োগ হচ্ছে। গরু সুস্থ হওয়ার পরিবর্তে আরো বেশি অসুস্থ হচ্ছে।
সাতক্ষীরা জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, ১ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত খুরা রোগে জেলায় ২ হাজার ৭০টি গরু আক্রান্ত হয়েছে। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৩৪টি গরু। এর মধ্যে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৬৭০টি, মারা গেছে ২৯টি এবং তালা উপজেলায় আক্রান্ত হয়েছে ৪০০টি এবং মারা গেছে পাঁচটি। তবে জেলার অন্য পাঁচ উপজেলায় খুরা রোগ দেখা দেয়নি বলে জানিয়েছে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর গ্রামের গরুর খামারি নিরঞ্জন মন্ডল জানান, খুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে এক সপ্তাহের ব্যবধানে তার খামারের সাতটি ফ্রিজিয়াম জাতের গাভী মারা গেছে, যার আনুমানিক মূল্য ২০ লাখ টাকা। তিনি বলেন, একেকটি গাভী প্রতিদিন ৬০-৭০ লিটার দুধ দিত। এসব গাভী মারা যাওয়ায় আমি সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছি। খামার করতে নিজের পুঁজির পাশাপাশি ব্র্যাক ব্যাংক থেকে ৬ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছি। হঠাৎ খুরা রোগে সাতটি গাভী মারা যাওয়ায় মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে।
তবে খামারি নিরঞ্জন মন্ডলের ধারণা, প্রাণিসম্পদ অফিসের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার খামারে এসে খুরা রোগের ভ্যাকসিন দিয়ে গেলে তার এ ক্ষতি হতো না।
একই উপজেলার ধুলিহর গ্রামের খামারি ফারুক মোল্যা জানান, কয়েক দিনের ব্যবধানে তার খামারের পাঁচটি ফ্রিজিয়াম জাতের বাছুর ও একটি বড় এঁড়ে গরু খুরা রোগে মারা গেছে। পাঁচটি বাছুর ও একটি বড় এঁড়ে গরুর আনুমানিক বাজারদর ৪ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা।
তিনি বলেন, সাতক্ষীরা জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের ডাক্তাররা খামারে আসতে চান না। তারা যদি সময়মতো গরুর চিকিৎসাসেবা দিত, তাহলে হয়তো এত বড় ক্ষতি হতো না।
সাতক্ষীরা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শহীদুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, খুরা রোগ দ্রুত যাতে নিয়ন্ত্রণে আসে সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। এ রোগের সরকারি ভ্যাকসিনেরও পর্যাপ্ত মজুদ আছে। এরই মধ্যে খামারিদের বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হয়েছে। গরু অসুস্থ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজেরা চিকিৎসা না করে সরাসরি প্রাণিসম্পদ অফিসে আসার জন্য খামারিদের বলা হয়েছে।
তবে অধিদপ্তরের ডাক্তাররা খামারে যান না, এ অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি বলেন, জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে ডাক্তারের অভাব নেই। অনেক সময় খামারিরা নিজেরাই চিকিৎসা করতে যেয়ে গবাদিপশু মেরে ফেলেন।










