ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেছেন, ‘৫ আগস্টের পর মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছে। ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশ গড়ে তুলতে রাষ্ট্র সংস্কার বেশি জরুরি। সংস্কার শেষ করে কালো টাকা ও পেশি শক্তিমুক্ত নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য পিআর পদ্ধতির নির্বাচনের বিকল্প নেই। গতানুগতিক নির্বাচন দিয়ে ফ্যাসিবাদকে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করার কোনো মানে হয় না।’

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন প্রসঙ্গে মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, ‘যাদের নিয়ে এই কমিশন গঠন করা হয়েছে তারা সবাই এলিট শ্রেণীর। শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষের কোনো প্রতিনিধি সেখানে নেই, উলামায়ে কেরামের কোনো প্রতিনিধি নেই। এই কমিশনের মাধ্যমে গণ ঐক্য গঠন সম্ভব হবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিগত স্বাধীনতার ৫৩ বছরে তিনটি দলের শাসনে মানুষ দেখেছে শোষণ-প্রবঞ্চনা। কাজেই এ দেশের ভবিষ্যৎ হলো একমাত্র ইসলাম। ইসলাম ছাড়া মানবতার মুক্তি ফিরে আসবে না।’

আজ শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে রাজনৈতিক শুদ্ধাচার ও বৈষম্যহীন কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনে কার্যকরী নির্বাচন ব্যবস্থা সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত নগর সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে প্রধান বক্তা ছিলেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা খলিলুর রহমান। ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি হাফেজ মুহাম্মদ শাহাদাত প্রধানিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ আব্দুর রহমান, ইসলামী মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, নগর দক্ষিণ সেক্রেটারি আব্দুল আউয়াল মজুমদার, শ্রমিক নেতা শাহাদাত হোসাইন, মাওলানা কামাল উদ্দিন, ডা. মজিবুর রহমান, মুহাম্মদ ইমাম হোসেন ভুঁইয়া, মাওলানা আল আমিনসহ ঢাকা মহানগরের নেতারা।

সম্মেলন শেষে হাফেজ মুহাম্মদ শাহাদাত হোসেন প্রধানিয়াকে সভাপতি, মুহাম্মদ ইমাম হোসেন ভুঁইয়াকে সহসভাপতি এবং শামসুল ইসলাম মোল্লাকে সাধারণ সম্পাদক করে ২০২৫-২৬ সেশনের জন্য নতুন কমিটি ঘোষণা করে তাদের শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান অতিথি।

মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, ‘ইসলাম আসার পূর্বে শ্রমিক, মহিলা, গরিব, কালো এ শ্রেণীর মানুষের অধিকার ছিল না। ইসলাম এসে প্রত্যেকের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। আরবে নারীদের অধিকার ছিল না, ইসলাম আসার পর নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠাই নয়, তাদের অগ্রাধিকার দিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, ইসলাম আসার পর খলিফাতুল মুসলিমিন হজরত ওমর (রা.) ঘোষণা দিলেন, ‘আমার খেলাফতের সময় শুধু মানুষ নয়, একটি বন্য প্রাণীও না খেয়ে থাকবে না।’

তিনি বলেন, ‘ইসলাম প্রতিষ্ঠা হলে বস্তিতে-ঝুপড়িতে, ফুটপাতে, খোলা আকাশের নিচে মানুষকে মানবেতর জীবন যাপন করতে হবে না। শিশু কাঁধে করে মায়েদের ভিক্ষা করতে হবে না। ইসলাম প্রতিষ্ঠা হলে শাসকরা মানুষের প্রকৃত দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে ঘরে ঘরে গিয়ে তাদের খাবার পৌঁছে দেবেন, তাদের সমস্যার সমাধান করবেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘ইসলাম প্রতিষ্ঠিত নেই বলে ফুটপাতে হাজার হাজার শিশু নেশাগ্রস্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। ইসলাম প্রতিষ্ঠা হলে তাদেরকে শিক্ষার আলোর মাধ্যমে যুগসেরা শিক্ষিত করে গড়ে তোলা হবে।’

ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির বলেন, ‘ইসলাম নেই বলেই ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায় ধর্ষণ সেঞ্চুরি পালন করে, আবরারের মতো মেধাবীদের হত্যা করে, আয়নাঘর সৃষ্টি করে বিরোধী মত দমন করে। কৃষক-মজুর, কামার-কুমার পার্থক্য সৃষ্টি করে অধিকার বঞ্চিত রাখা হবে।’

মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, ‘ইসলাম কী জিনিস মানুষ বুঝতে পারলে ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো মত-পথ গ্রহণ করত না।’ তিনি সবাইকে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে সৌন্দর্য তুলে ধরার আহ্বান জানান।