খুলনার ডুমুরিয়ায় চায়ের দোকানে ঢুকে শেখ তরিকুল ইসলাম (৩৫) নামে এক ঘের ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল বেলা পৌনে ২টার দিকে উপজেলার রংপুর ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর জোড়া বটতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত তরিকুল ইসলাম রংপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শেখ আব্দুস সালামের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে ডুমুরিয়া থানার ওসি খন্দকার হাফিজুর রহমান জানান, গতকাল দুপুরের দিকে তরিকুল স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে বসেছিলেন। এ সময় দুই যুবক মোটরসাইকেলে এসে তরিকুলকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে মাথায় গুলি লেগে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। পরে হামলাকারীরা খুলনা-দৌলতপুর সড়ক হয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
ওসি বলেন, ‘খবর পাওয়ার পর পরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে।’
সাম্প্রতিক সময়ে খুলনায় সন্ত্রাসী তৎপরতাসহ নানা অপরাধ বেড়েছে। প্রতিদিনই ঘটছে গুলি ও হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা। এতে নগরীর মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপরাধীদের দমনে অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানালেও খুনের ঘটনা থামছে না।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত নগর এলাকায় ৩৭টি হত্যা মামলা হয়েছে। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩৯ জন। এ হত্যাকাণ্ডের বাইরেও জেলায় অন্তত ৩৫টি হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এর আগে ২০২১ সালে ১৫টি, ২০২২ সালে ১৯টি, ২০২৩ সালে ১৭টি, ২০২৪ সালে ২৯টি এবং ২০২৫ সালে ৩৪টি হত্যা মামলা হয়েছিল।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ, ছিনতাই, পূর্বশত্রুতা ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরোধ রয়েছে।










