চট্টগ্রামের হাটহাজারী মডেল থানাধীন মদুনাঘাট এলাকায় গত ৭ অক্টোবর ব্যবসায়ী আব্দুল হাকিম হত্যার সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, রাউজান থানার বালুমহলের নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতুর নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও হাটহাজারী থানা যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও সহযোগীদের শনাক্ত করে। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) হাটহাজারী মডেল থানা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ঘটনার দিন সকালে হাকিম নিজ প্রাইভেটকারে হামিম এগ্রো ফার্মে যান। বিকালে চট্টগ্রাম শহরে ফেরার পথে মদুনাঘাট ব্রিজের পশ্চিম পাশে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা সন্ত্রাসীরা তার গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে তিনি মারা যান।

ঘটনার পর থেকে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা শাখা ও হাটহাজারী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্য ও তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৩১ অক্টোবর রাউজান উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের গরীব উল্লাহ পাড়া থেকে মো. আব্দুল্লাহ খোকনকে (ল্যাংড়া খোকন) গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন।

খোকনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২ নভেম্বর রাউজানের চৌধুরীহাট এলাকা থেকে মো. মারুফকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি পুলিশের কাছে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রের অবস্থান জানান, যা সাকলাইন হোসেনের হেফাজতে ছিল।

পরবর্তীতে ৪ নভেম্বর রাতে হাটহাজারী থানার বিশেষ টিম নোয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাকলাইন হোসেনকে গ্রেফতার করে। তার কাছ থেকে দেশীয় তৈরি একনলা বন্দুক, একটি এলজি ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে পুলিশের তৎপরতায় জিয়াউর রহমানসহ মোট ৪ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া আরো ১০-১২ জন আসামির পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।

গ্রেফতার আসামিদের বক্তব্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাউজান থানাধীন বালুমহলের নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানায়, অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও অস্ত্র উদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি নোয়াপাড়া, চৌধুরীহাট ও আশপাশের এলাকায় চেকপোস্ট, টহল, বিশেষ অভিযান ও রাত্রীকালীন তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।