সিরাজগঞ্জের পৌর এলাকার দিয়ারধানগড়া ও ভাঙ্গাবাড়ী এলাকার বাসিন্দাদের সংঘর্ষের জেরে গতকাল দুপুরে আবারো শহরব্যাপী ইটপাটকেল, লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠেছে। প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী তাণ্ডবের সময় শপিংমল মুক্তা প্লাজাসহ কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাংচুর, পেট্রল বোমা নিক্ষেপ ও অগ্নিসংযোগ করে দিয়ারধানগড়া মহল্লাবাসী। এতে কেউ হতাহত না হলেও ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে শহরের সব দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা মোটারসাইকেল চালকদের নিকট থেকে কমপক্ষে ছয়টি হেলমেট ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। খবর পেয়ে পুলিশ এসে ছত্রভঙ্গ করে দেয় হামলাকারীদের।

এর আগে বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শহরের ভাঙ্গাবাড়ী এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে পুরনো ভাঙ্গাবাড়ী মহল্লার আবু সাঈদের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন (২০) নামের এক যুবক নিহত হয়।

এদিকে এ ঘটনায় থানায় দুটি মামলা হয়েছে। দুদিনে ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল নিহত সাজ্জাদ হোসেনের মা শারমিন আকতার বাদী হয়ে ২৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো কয়েক জনের নামে মামলা করেছেন। এছাড়া পুলিশের কাজে বাধাদানের অভিযোগে আরেকটি মামলা করেছে পুলিশ। মুক্তা প্লাজার স্বত্বাধিকারী ও সিরাজগঞ্জ পৌর মেয়র সৈয়দ আব্দুর রউফ মুক্তা বলেন, দুই মহল্লার মারামারি ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুক্তা প্লাজায় ভাংচুর, পেট্রল বোমা নিক্ষেপ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা উদ্দেশ্যমূলক। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান তিনি।

সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম মামলা ও আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে, আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।