চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বিদেশী শিপিং লাইনগুলোর সারচার্জ (বাড়তি মাশুল) আরোপ করার প্রেক্ষিতে সাতটি জাহাজের অভ্যন্তরীণ অনুমোদন বাতিল করেছে। এ নিষেধাজ্ঞা জারি করার পাশাপাশি আরো কিছু শিপিং কোম্পানিকে পরবর্তী কার্যক্রম বাতিল না করলে তাদের জাহাজের অনুমোদন বাতিল করা হবে বলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ হুঁশিয়ারি দিয়েছে ।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরের নতুন মাশুল নিয়ে গেজেট প্রকাশ করা হলেও এক মাস মেয়াদ শেষে ১৬ অক্টোবর থেকে একযোগে বিভিন্ন সেবার মাশুল ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।

বেশ কয়েকটি শিপিং কোম্পানি ৭ অক্টোবর থেকে বাড়তি সারচার্জ আরোপ করার পদক্ষেপ নিতে শুরু করে । ফ্রান্স ভিত্তিক সিএমএ–সিজিএম ২০ ফুট কনটেইনারে ৪৫ ডলার বাড়তি সারচার্জ ঘোষণা করেছিল। ডেনমার্কভিত্তিক মায়ের্সক লাইন ২০ ফুট কনটেইনারে টার্মিনাল হ্যান্ডলিং চার্জ ১২০ ডলার থেকে ১৬৫ ডলারে বৃদ্ধি করেছে ও ৪০ ফুট কনটেইনারে বাড়তি কর ১০৫ ডলার যোগ হয়েছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক এমএসসি ১০০ ডলারের সারচার্জ ঘোষণা করেছিল যদিও পরে তারা চিঠিতে জানায়, চট্টগ্রাম বন্দরে মাশুল আদায় করবে না। এদিকে দেশীয় এইচআর লাইনস প্রতি কনটেইনারে ২৫ থেকে ৩০ ডলারের মধ্যে সারচার্জ আরোপ করেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সিএমএ–সিজিএম এর সাতটি জাহাজের অনুমোদন বাতিল করেছে, কারণ ওই কোম্পানি আগেই বলা শর্ত 'কোনো সারচার্জ আরোপ করা যাবে না' লঙ্ঘন করেছে। অনুমোদন বাতিল হওয়া জাহাজগুলো জেটিতে ভিড়তে পারবে না, জেটিতে লোড আনলোডও হবে না। দুটি জাহাজ এরইমধ্যে বন্দরের জলসীমায় নোঙর করেছে, যদিও জেটিতে পৌঁছাতে পারছে না। চাপে পড়ে ওই শিপিং কোম্পানি অবশেষে সারচার্জ প্রত্যাহার করেছে।

উল্লেখ্য, বন্দর কর্তৃপক্ষ এই মাশুল শিপিং এজেন্টদের কাছ থেকে আদায় করে। শিপিং এজেন্টরা তাদের গ্রাহক অর্থাৎ আমদানি রফতানিকারকদের থেকে সেই মাশুল আদায় করে। তবে সাধারণত পণ্য পরিবহনের জন্য বার্ষিক ভিত্তিতে শিপিং কোম্পানিগুলো বড় গ্রাহকদের সঙ্গে চুক্তি করে। চুক্তি শেষ হওয়ার আগে পণ্য পরিবহন ভাড়া বাড়ানোর সুযোগ নেই। এ জন্য শিপিং কোম্পানিগুলো তাৎক্ষণিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সারচার্জ আরোপ করে।