লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ছয় ছাত্রের চুল কেটে দেয়ার ঘটনায় মাদ্রাসা শিক্ষক মঞ্জুরুল কবিরকে (৩৯) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার কাজির দীঘিরপাড় এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গতকাল দুপুরে গ্রেফতারকৃত ওই শিক্ষককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভুক্তভোগী শাহাদাত হোসেন নামের এক শিক্ষার্থীর মা সাহেদা বেগম বাদী হয়ে শিশু নির্যাতন দমন আইনে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে রায়পুর থানায় একটি মামলা করেন।
গ্রেফতার শিক্ষক মঞ্জুরুল কবির হামছাদী কাজির দীঘিরপাড় আলিম মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক ও বামনী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির।
জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর উপজেলার হামছাদী-কাজির দীঘিরপাড় আলিম মাদ্রাসার দশম শ্রেণীর ক্লাসরুমের সামনে ছাত্রদের ডেকে ডেকে চুল কেটে দেন শিক্ষক মঞ্জুরুল কবির। পরে ছাত্ররা ক্লাস না করেই মাদ্রাসা থেকে বেরিয়ে যায়। এ নিয়ে মাদ্রাসার ছাত্র ও অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এ ঘটনায় মাদ্রাসার দাখিল শ্রেণীর শিক্ষার্থী নাজমুল আলম, ফজলে রাব্বীসহ কয়েকজন এর প্রতিবাদ জানালে পরবর্তী সময়ে মাদ্রাসার অন্যান্য শিক্ষকের মধ্যস্থতায় ছাত্ররা ক্লাস শেষ করে। শুক্রবার দুপুরে ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে তদন্তে নামে পুলিশ। সরেজমিনে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পায় পুলিশ।
গ্রেফতারের আগে অভিযুক্ত শিক্ষক মঞ্জুরুল কবির বলেন, সব ছাত্রকে পরীক্ষার আগের দিন চুল কেটে মাদ্রাসায় আসতে বলা হয়েছে। কিন্তু তারা না মানায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে থাকা ও নীতিনৈতিকতার শিক্ষা দেয়ার জন্যই কমিটির আরো তিন শিক্ষকের উপস্থিতিতে ছাত্রদের চুল কেটে দিয়েছি।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল জলিল বলেন, কোনো শিক্ষক ছাত্রদের চুল কাটতে পারেন না। এ ঘটনায় এক ছাত্রের অভিভাবক থানায় মামলা করেছেন। মামলায় মাদ্রাসা শিক্ষক মঞ্জুরুল কবিরকে শিশু নির্যাতন আইনে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি বামনী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমিরের দায়িত্বে রয়েছেন বলে জানা গেছে। পুরো ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে। প্রয়োজন হলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে।










