লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে মিছিলকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। শহরের বাস টার্মিনাল এলাকায় চাইনিজ রেস্টুরেন্টসহ তিনটি প্রতিষ্ঠান ভাংচুর হয়েছে। খবর পেয়ে রায়পুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় উভয় দলের প্রায় ২২ নেতাকর্মী আহত হন। এর মধ্যে উভয় পক্ষের আহত ১৪ নেতাকর্মী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, সকাল ৮টার সময় বিএনপিসহ তাদের সংগঠনের নেতাকর্মীরা শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে চলে আসে গাজী মার্কেটের সামনে। একই সময় শহীদ মিনারে ফুল দিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল খোকনের নিজ কার্যালয়ে জড়ো হতে থাকেন। এ সময় বিএনপির মিছিলটি আওয়ামী লীগ নেতার কার্যালয়ের সামনে আসামাত্রই তাদের ধাওয়া করে কয়েকজন। পরে বিএনপির নেতাকর্মীরা গাজী মার্কেটে এলে তাদের উদ্দেশে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া দেয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। বিএনপির নেতারা গাজী মার্কেটে সভা ও নাশতা বিতরণ করার সময় তা ভণ্ডুল করে দেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। পরে আওয়ামী লীগ কর্মীরা বাস টার্মিনাল এলাকায় মিছিল নিয়ে আজাদ হোসেন নামে এক বিএনপি সমর্থকের চাইনিজ রেস্টুরেন্ট ও ভবনের কাচের গ্লাস ও দুটি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে।

পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী জামশেদ কবির বাক্কি বিল্লাহ বলেন, সোমবার সকালে বিএনপির নেতাকর্মীরা শহীদ মিনারে ফুল দিতে যাওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারবিরোধী নানা স্লোগান দেয়। আমরা বাধা দিলে তারা আমাদের ওপর ইটপাকেল নিক্ষেপ করে। এতে উভয় দলের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। আমাদের ১০-১২ নেতাকর্মী  গুরুতর আহত হয়েছেন।  মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আলম মিঠু বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে গাজী মার্কেটে চলে আসি। সভাশেষে কর্মীদের মাঝে নাশতা বিতরণের সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে আমাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। আমাদের সাত-আটজন নেতাকর্মী মাথায় ও শরীরে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শিপন বড়ুয়া বলেন, শহীদ মিনারে ফুল দেয়ার পর বিএনপি নেতাকর্মীরা বেফাঁস স্লোগান দিলে তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষ এড়াতে শহরের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি বলে জানান ওসি।