আগামী ২৮ মে দেশজুড়ে উদযাপিত হবে ঈদুল আজহা। এ উপলক্ষে রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, পুলিশ ক্যাম্প, ওয়াচ টাওয়ার এবং জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিন স্থাপনসহ সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এসব পদক্ষেপের অংশ হিসেবে হাটের আশপাশে ক্রেতা, বিক্রেতা, দর্শনার্থী এবং পশুবাহী যানবাহনের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে ট্রাফিক পুলিশও মোতায়েন করা হবে।

আজ শুক্রবার ডিএমপির মুখপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরউদ্দিন বলেন, রাজধানীর সব পশুর হাটে এবং আশপাশের এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক ইউনিফর্মধারী ও সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। এছাড়া গাড়ি ও মোটরসাইকেলে টহল দল সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাবে, যাতে গরু ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা নিরাপদে হাটে যাতায়াত করতে পারেন।

তিনি বলেন, নিরাপত্তা জোরদারে সব পশুর হাটকে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি পুলিশ ক্যাম্প ও ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হবে। এছাড়া রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থান, বিশেষ করে প্রবেশ ও বাহিরমুখী প্রধান সড়কগুলোয় পুলিশ চেকপোস্ট আরো জোরদার করা হবে।

ডিএমপির মুখপাত্র বলেন, এসব চেকপোস্ট ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে এবং মোবাইল টহল দল নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাবে।

ডিএমপি মুখপাত্র বলেন, ঈদুল আজহার সময় কেনাবেচায় প্রায়ই জাল নোটের ব্যবহার বেড়ে যাওয়া রোধে হাটগুলোয় পর্যাপ্ত জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিনও বসানো হবে। ডিএমপির পক্ষ থেকে আমরা ১৫০টি জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিন সরবরাহ করব। সিটি করপোরেশন, ইজারাদার ও ব্যাংকগুলোকে অতিরিক্ত মেশিনের ব্যবস্থা করার জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, জাল নোট চক্রের বিরুদ্ধে গত ১ মে থেকে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। এ সময় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযানে জাল নোট ও জাল নোট তৈরির সরঞ্জামসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ যাতে নিরাপদে বড় অঙ্কের অর্থ পরিবহন করতে পারেন, সেজন্য আগের বছরের মতো এবারও অর্থ পরিবহনে পুলিশি সহায়তা বা ‘মানি এসকর্ট’ সেবা দেয়ার পরিকল্পনা করেছে ডিএমপি।

নাসিরউদ্দিন বলেন, ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ছিনতাই ও চাঁদাবাজির ঘটনা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় পুলিশ সদস্যদের উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। গত ১ মে থেকে শুরু হওয়া বিশেষ অভিযানে এখন পর্যন্ত ছিনতাইকারী, মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজসহ ১ হাজার ৯০০ জনেরও বেশি অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় ২০০ জন তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ এবং ৪০০ জন তালিকাবহির্ভূত চাঁদাবাজ বলে তিনি জানান।

ডিএমপির মুখপাত্র বলেন, ঈদের পুরো সময়জুড়ে চাঁদাবাজ ও ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

তিনি আরো বলেন, ঈদকে সামনে রেখে জননিরাপত্তা নিশ্চিতে রাজধানীর প্রধান শপিং মল ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রে নারী পুলিশ সদস্যসহ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। এছাড়া ঈদ উদযাপনে অনেক নগরবাসী গ্রামের বাড়িতে চলে যাওয়ায় আবাসিক এলাকাগুলোতে ছিনতাই ও চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধে পুলিশ টহল দল ও নিয়মিত বাহিনী সতর্ক অবস্থানে থাকবে।

এ বছর ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীতে মোট ২৭টি পশুর হাট বসবে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতায় ১১টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতায় ১৬টি হাট থাকবে।

সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানান, অস্থায়ী পশুর হাটগুলোয় যানজট নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জনস্বাস্থ্য, পানি সরবরাহ ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হবে।