এ তথ্য নিশ্চিত করে বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্র্যাকিং ক্লাব (বিএমটিসি) জানিয়েছে, নেপাল সময় সকাল ৫টা ২৪ মিনিটে নিম্নি এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছান। তার সঙ্গে ছিলেন নেপালের এইটকে এক্সপেডিশনের একজন অভিজ্ঞ শেরপা।

ঢাকা থেকে নেপালের উদ্দেশে গত ১১ এপ্রিল যাত্রা শুরু করেন নিম্নি। কাঠমান্ডু হয়ে লুকলা পেরিয়ে পৌঁছান এভারেস্ট বেজ ক্যাম্পে। এরপর ধাপে ধাপে উচ্চতার সঙ্গে শরীরকে মানিয়ে নেয়ার কঠিন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।

এভারেস্ট অভিযানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় ধরা হয় মে মাসের মাঝামাঝি থেকে শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত। সে সময়কে লক্ষ্য করেই ১৭ মে চূড়ান্ত আরোহণ শুরু করেন তিনি। একে একে পৌঁছে যান ক্যাম্প-৩ পর্যন্ত। তবে ২২ মে ক্যাম্প-৪-এর পথে ভয়াবহ আবহাওয়ার মুখে পড়ে তাকে নিচে নেমে আসতে হয়।

কয়েকদিন ক্যাম্প-২-এ অপেক্ষা করতে হয় অনুকূল আবহাওয়ার জন্য। অবশেষে ২৫ মে নতুন করে যাত্রা শুরু করেন। পরদিন পৌঁছান ক্যাম্প-৪-এ। সেখান থেকেই শুরু হয় জীবনের সবচেয়ে কঠিন আরোহণ। রাতভর বরফঝড়, অক্সিজেনস্বল্পতা আর ভয়ংকর ঠাণ্ডার সঙ্গে লড়াই শেষে ভোরে পৌঁছে যান বিশ্বের ছাদে। এর মধ্য দিয়ে প্রায় ১৪ বছর পর কোনো বাংলাদেশী নারী আবারো পৌঁছালেন পৃথিবীর সর্বোচ্চ শিখরে।

রংপুরে বেড়ে ওঠা নুরুন্নাহার নিম্নি বর্তমানে পূবালী ব্যাংকের জেনারেল ব্যাংকিং বিভাগে প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে কর্মরত। তার এভারেস্ট অভিযানের পৃষ্ঠপোষকও ছিল প্রতিষ্ঠানটি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগে পড়াকালেই পাহাড়ের প্রতি ভালোবাসা জন্ম নেয় তার। ২০০৬ সালে প্রথম বর্ষের ফিল্ডওয়ার্কে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে গিয়ে পাহাড় যেন তাকে নতুন করে ডাক দেয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বড় একটি সময় কেটেছে বান্দরবানের পাহাড়ে ঘুরে।