অবাধ ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক (এফওআইপি) ধারণা বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে জাপান। একইসঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নকেন্দ্রিক ‘বিগ-বি’ উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে টোকিও।

সোমবার ঢাকায় জাপান দূতাবাসের মেটা পেজে প্রকাশিত এক বার্তায় বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থান করায় বাংলাদেশ আঞ্চলিক উন্নয়নে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দেশ।

রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সম্প্রতি ভিয়েতনামের হ্যানয় সফরে ‘আপডেটেড এফওআইপি’ ধারণা তুলে ধরেন। ওই কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশকে জাপানের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ‘‌আপডেটেড এফওআইপি’ কাঠামোর অধীনে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা আরো জোরদার করতে জাপান বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যেতে আগ্রহী।

বার্তায় বলা হয়, ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে বিভিন্ন রাষ্ট্রগঠনমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হয়। এ প্রক্রিয়াকে রাষ্ট্রদূত একটি ‘‌ঐতিহাসিক রাজনৈতিক উত্তরণ’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং বাংলাদেশ সরকারকে অভিনন্দন জানান।

জাপান–বাংলাদেশ সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকে দুদেশের মধ্যে আস্থা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ক্রমাগতভাবে শক্তিশালী হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এটি কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত হয়েছে।

রাষ্ট্রদূত জানান, চলতি বছরের এপ্রিলের শেষ দিকে জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্যমন্ত্রী ঢাকায় সফর করেন এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় জাপানের প্রধানমন্ত্রীর একটি বার্তা হস্তান্তর করা হয় এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরো জোরদারের আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে তিনি জানান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুদেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরসংক্রান্ত চুক্তি হয়েছে। পাশাপাশি ‘অফিসিয়াল সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্স’ (ওএসএ) কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য কয়েকটি পেট্রোল বোট সরবরাহের প্রস্তুতি চলছে।

অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও জাপানি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। সম্প্রতি স্বাক্ষরিত জাপান–বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) দুদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন ভিত্তি দিয়েছে।

উন্নয়ন সহযোগিতায় জাপান দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ অংশীদার উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ঢাকা মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলো ‘বিগ-বি’ (বঙ্গোপসাগর শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয়) উদ্যোগের অংশ।

তিনি আরো বলেন, এসব প্রকল্পের ধারাবাহিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের টেকসই প্রবৃদ্ধিকে সমর্থন দিতে জাপান ভবিষ্যতেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

জনগণের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও মানবিক যোগাযোগ বৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশে জাপানি ভাষা শেখার আগ্রহ ক্রমাগত বাড়ছে, যা দুদেশের সম্পর্ককে আরো ঘনিষ্ঠ করছে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে অবস্থানরত জাপানি নাগরিকদের নিরাপত্তা দূতাবাসের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ২০১৬ সালের হলি আর্টিসান হামলার দশম বার্ষিকীকে স্মরণ করে তিনি জাপানি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অব্যাহত অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

বার্তার শেষে রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি বলেন, জাপান ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো উচ্চতায় নিয়ে যেতে দুদেশ একসঙ্গে কাজ করে যাবে।