নারায়ণগঞ্জে অগ্নিদগ্ধদের চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলে ২৪ জনের মধ্যে অন্তত ১২ জন মানুষ কম মারা যেত বলে মনে করছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
তিনি বলেন, এ চিকিৎসা তেমন কোনো কঠিন কাজ না। ডাক্তারদের একটি অতিরিক্ত ট্রেনিং দিলেই তারা এ চিকিৎসা দিতে পারে। সরকার দিলে ভালো, নইলে আমাকে বললে আমি তিনদিনের ট্রেনিং দিবো তাহলেই ডাক্তাররা নারায়ণগঞ্জে বা ঢাকার বাইরেও অগ্নিদগ্ধদের চিকিৎসা দিতে পারবেন। দেশের প্রতিটি জেলা হাসপাতালে বার্ন ইউনিট স্থাপনেরও দাবি জানান তিনি।
আজ রোববার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের তল্লার বায়তুস সালাত মসজিদের বিস্ফোরণস্থল পরিদর্শনে এসে এসব কথা বলেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। এ ঘটনায় নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি জানান তিনি।
নারায়ণগঞ্জের হাসপাতালগুলোতে অগ্নিদগ্ধ রোগী গেলেই তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়- উপস্থিত লোকজনের এমন তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ডাক্তার করবেটা কী? তার তো ট্রেনিং নাই। নারায়ণগঞ্জের হাসপাতালে অগ্নিদগ্ধ রোগীরা গেলে ডাক্তার আতঙ্কে পড়ে যায়। পালানোর জন্য সে বলে রোগীকে ঢাকা নিয়ে যান। সেখানে ভালো চিকিৎসা হবে। ভালো না আর কিছু, মানুষের পকেট খালি করা আরকি! তারপরে বলে ইন্ডিয়াতে যাও।
তিনি বলেন, একটা দুঃখের বিষয় হচ্ছে এখানে তাদের যে চিকিৎসাটা দেয়া উচিত ছিল সেটা হয় নাই। এত বড় একটা জেলা শহর, এত বড় একটা হসপিটাল। এখানে উচিত ছিল সঙ্গে সঙ্গে মরফিন ইনজেকশন দেয়া। তাহলে ব্যথাটা থাকতো না। দুর্ভাগ্য যে আমাদের পর্যাপ্ত ওষুধ নেই। অথচ ওষুধের দাম খুব বেশি না। একটা ইনজেকশনের দাম ৩৫ টাকা মাত্র। সরকার চাইলে মৃত্যুর সংখ্যাটা আরো কমতে পারতো।
এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিচারের দাবি জানিয়ে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, তিতাস কর্তৃপক্ষের অবহেলা সম্পর্কে তদন্ত হবে, আলোচনা হবে, পরীক্ষা হবে এই সমস্ত আজগুবি কথা না বলে ৭ দিনের মধ্যে একটা বিচার হওয়া উচিত।
গত শুক্রবার সদর উপজেলার পশ্চিম তল্লা এলাকার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে এখন পর্যন্ত ২৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। গুরুতর দগ্ধ আরো ১৩ জন শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন।










