নতুন সড়ক আইন সংস্কারের দাবিতে খুলনায় দ্বিতীয় দিনের মতো অঘোষিত কর্মবিরতি অব্যাহত রেখেছে বাস চালকরা। আজ মঙ্গলবার সকালে থেকে খুলনা রুটে বাস, মিনিবাস ও পরিবহন ছেড়ে যায়নি। বাস চলাচল বন্ধ হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

রাইসা ইসলাম বলেন, বাস চলছে না এটা জানি। তারপরও জরুরী দরকারে কেশবপুর যেতে হবে। একারণেই বাস স্ট্যান্ডে এলাম। ভাবলাম চুকনগর হয়ে ভেঙ্গে ভেঙ্গে গাড়ি পাব। কিন্তু না। এখন ইজিবাইকে যেতে হচ্ছে।

সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি বিপাকে রয়েছেন, খুলনায় অবস্থান নিয়ে বাগেরহাট, যশোর, নওয়াপাড়া, ফুলতলা, মংলা, ফকিরহাট, মেল্লাহাট, গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানের সরকারী কর্মজীবীরা।

বাস চালক জাহিদুল ইসলাম বলেন, চলাকরা জেল জরিমানার আতঙ্কে রয়েছে। সড়কে গাড়ি নিয়ে নামলে টুকটাক সমস্যা হবেই। সেটা যে কারও ক্ষেত্রেই হতে পারে। আমরা কোন অপরাধ না করলে সমস্যা কিছু থাকবে। আর এসব ছোট খাট কারণে প্রশাসন জেল জরিমানা করে দিবে। এর থেকে গাড়ি না চালানোই ভালো হবে।

খুলনার অপর চালক মনিরুজ্জামান মনির বলেন, আমরা গাড়ি নিয়ে সড়কে নামলে মালিক টাকা দেয়। না নামলে টাকা পাইনা। পরিবহন মালিকের সাথে চালকদের এটাই চুক্তি। আর একারণে আমরা চালকরা গাড়ি না চালানোর পক্ষে। এআইনটি ভালো। কিন্তু কিছু ধারা মালিক ও চালক স্বার্থ বিরোধী আছে। সেগুলোর সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত চালকরা গাড়ি নিয়ে সড়কে না নামার পক্ষে।

গতকাল সোমবার থেকে আইন কার্যকর করা হয়েছে আইনটি প্রণয়নের পর থেকেই তীব্র বিরোধিতা করে আসছে পরিবহন মালিক চালক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো। বাসচালকসহ খুলনার মোটর শ্রমিক নেতারা বলছেন, সড়ক দুর্ঘটনায় কেউ মারা গেলে নতুন আইনে চালকদের মৃত্যুদণ্ড এবং আহত হলে ৫ লাখ টাকা জরিমানা দিতে হবে।

চালকদের এত টাকা দেওয়ার সামর্থ্য নেই। একজন চালকের পক্ষে ৫ লাখ টাকা জরিমানার অর্থ প্রদান করা সম্ভব না। কারণ একজন চালকের মাসিক বেতন ১৫ হাজার টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা। একারণেই নতুন পরিবহন আইন সংশোধনের পর আইনটি বাস্তবায়নের জন্য চালকরা দাবি জানান। তা না হলে কোন চালক আর বাস চালাবেন না। শ্রমিক নেতারা বলছেন, বিষয়টি নিয়ে ২১ ও ২২ নভেম্বর শ্রমিক ফেডারেশন বর্ধিত সভা ডেকেছে। ওই সভার এজেন্ডাগুলোর মধ্যে এক নম্বরে রয়েছে সড়ক পরিবহন আইন সম্পর্কে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
 
মঙ্গলবার সকালে খুলনার সোনাডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে অসংখ্য যাত্রীর ভিড় হয়। টার্মিনালে থাকা খুলনা থেকে কোন বাস না ছাড়ায় এ সব যাত্রী বিপাকে পড়েছেন। জরুরি প্রয়োজনে অনেক যাত্রী ইজিবাইক, মাহিন্দ্রা ভাড়া করে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে মংলা। বাগেরহাট, কাটাখালী, ফকিরহাট, ডুমুরিয়া, চুকনগর, তালা,পাইকগাছা, কয়রা,কেশবপুরসহ বিভিন্ন গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন।